বীজ ভাঙানোর যন্ত্রের অভাব
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নিকলী হাওরে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী। এখন ফুটেছে ফুল। বেড়িবাঁধ দিয়ে চলতে গিয়ে হঠাত্ চোখ আটকে যায় দূরে থাকা সূর্যমুখীর খেতে। হাওরের এ ফুলের খেত যেন বাড়তি সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। আর সে সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, গাজীপুর, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। এতে পর্যটকদের তৃপ্তি মিটলেও সূর্যমুখীখেতের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান কৃষক। অন্যদিকে বীজ থেকে তেল তৈরির কোনো যন্ত্র না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। চাষি মো. জালাল উদ্দীন জানান, কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জমিটির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছেন। অনেক পর্যটক ছবি তোলার সময় ফুল নষ্ট করে দিচ্ছেন। নিকলী সদর ইউনিয়নের চামারটুলা গ্রামের কৃষক মো. জালাল উদ্দিন ও নবী হোসেন বলেন, বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফুল ফোটা ও পুনরায় বীজ সংগ্রহে মোট ১১০-১২০ দিন সময় লাগে। তবে বীজ সংগ্রহের পর কী করবেন সেটা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। কারণ বীজ থেকে তেল তৈরির কোনো যন্ত্র নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকারিভাবে সূর্যমুখীর তেল তৈরির একটি যন্ত্র কেনার ব্যাপারে তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সরিষা বীজ ভাঙানোর যন্ত্রেও সূর্যমুখীর বীজ ভাঙিয়ে তেল সংগ্রহ সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সূর্যমুখীর তেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই। এছাড়া ঝাঁঝযুক্ত ক্ষতিকর লিনোলিক অ্যাসিডও থাকে না। বরং এ তেলে স্বাস্থ্যকর ‘ইরোসিক অ্যাসিড’ থাকে। এক কেজি সূর্যমুখীর বীজে ৪০০-৪৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। আর এক কেজি সরিষায় মেলে ৩০০-৩৫০ গ্রাম তেল। ফলে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের বেশ আগ্রহ রয়েছে।
