একুশে বই উত্সব শুরু

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২২

 ‘অমর একুশে আমাদের প্রেরণার উত্স’

ইত্তেফাক রিপোর্ট

এ বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে না হয়ে বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে মার্চে। তাই বলে কি বই নিয়ে আয়োজন বসে থাকবে! থাকছেও না। প্রকাশকরা নিজেদের মতো করেই আয়োজন করেছে বইমেলার। স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘বাতিঘর’ তাদের দেশের সবকটি বিক্রয় কেন্দ্রে শুরু করেছে মাসব্যাপী বই উত্সবের। পাশাপাশি পাবলিশার্স ফোরামা কাঁটাবনে কনকর্ড এম্পোরিয়ামে আয়োজন করেছে সপ্তাহব্যাপী বই উত্সবের। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে বই উত্সবের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর এবং কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ।

উত্সবের উদ্বোধন করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, অমর একুশে আমাদের প্রেরণার উত্স। একুশ সবসময় নতুন নতুন মন্ত্র নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। আনিসুল হক বলেন, বাতিঘরের একুশে বই উত্সব একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই উত্সবের মাধ্যমে আমরা ফেব্রুয়ারির বইমেলাকে উপলব্ধি করতে পারি। একযোগে বাতিঘরের চারটি শাখা ঢাকা, বাংলাবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটে চলবে বই উত্সব। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর ২৫ থেকে ৪০ ভাগ ছাড়ে দেশের বিভিন্ন প্রকাশনার বই বিক্রি করা হবে। উত্সব চলবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে।

কাঁটাবনে সপ্তাহব্যাপী একুশে বই উত্সব :পাবলিশার্স ফোরামের আয়োজনে কাঁটাবনে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যপী বই উত্সব। জাতির পিতা বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীকে সামনে রেখে এ উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আবিষ্কার প্রকাশনের প্রকাশক দেলোয়ার হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একুশে বই উত্সব এর আহ্বায়ক শওকত আলী তারা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, বই উত্সব সবসময় তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়। কাঁটাবন কনকর্ড মার্কেট প্রাঙ্গণে আগামী সাত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই উত্সব চলবে। ক্রেতারা ২৫ ভাগ কমিশনে বই কিনতে পারবেন। প্রতিদিনের সর্বোচ্চ অঙ্কের বই ক্রেতাদের মধ্য থেকে তিন জনের জন্য থাকবে বিশেষ পুরস্কার। মানসম্মত নতুন বইয়ের জন্য তিনজন প্রকাশককে দেওয়া হবে পুরস্কার। উত্সবে বইয়ের আনন্দের পাশাপাশি প্রতিদিন অমর একুশের আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা পাঠের আয়োজন রয়েছে।

উত্সবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, জয়তী, মুক্তচিন্তা, মূর্ধণ্য, গদ্যপদ্য, আবিষ্কার, টাঙ্গন, সংহতি, জাগৃতি, চিরদিন, বেহুলা, মহাকাল, সমগ্র, গণপ্রকাশন, অনুপ্রাণন, অগ্রদূত, বলাকা, কবি, সাহস, আপন প্রকাশ, উজান, প্রকৃতি, খোয়াবনামা, মধ্যমা, দ্বিমিক, অ, পেন্ডুলামসহ ৫০টি প্রকাশনা।