মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় এ আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও তার বিকাশে বিশ্বাসী। আমরা আশা করি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা সমুন্নত থাকবে। নিকটতম ও বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই আমাদের কাম্য। মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণকর সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যেও আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই প্রক্রিয়াগুলো চলমান থাকবে।’
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে নয়। তাই মিয়ানমারের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া হবে। ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এর আগেও মিয়ানমারের এই সেনা সরকারের অধীনেই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। কাজেই প্রত্যাবাসন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটা কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে গেলেও আটকে যাবে না। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, সেটা সেনা সরকার নিশ্চিত করলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আর কোনো চিন্তা থাকবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। সেখানে কে ক্ষমতায় আছে তা বিবেচ্য নয়। চুক্তিটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
