রেমিট্যান্স কমে যাবে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। করোনার মন্দার মধ্যে রেমিট্যান্স বাড়া শুরু হওয়ার পর সেই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে। প্রতিমাসেই বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছে ১৯৬ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। রেমিট্যান্সের প্রবাহ চাঙ্গা থাকায় ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় এসেছিল ১ হাজার ১০৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা পেয়ে আসছেন। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে রেমিট্যান্স।
করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা কাটাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ লাখ টাকা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। আগে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল।
রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মজুদ থাকলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসাবে চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আছে তা দিয়ে ১০ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
