নৈশপ্রহরী থেকে পৌর মেয়র

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০১

নৈশপ্রহরী থেকে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন রাজশাহীর সাইদুর রহমান। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীকে ৬১ ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। সাইদুর রহমান মুন্ডুমালা মহিলা কলেজের নৈশপ্রহরী ছিলেন।

মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো শনিবার রাতে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান ‘জগ’ প্রতীকে ৫ হাজার ৪৫৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আমির হোসেন আমিন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৯৮ ভোট। বিএনপির প্রার্থী মো. ফিরোজ কবির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮১ ভোট।

জানা যায়, মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রায় ১০ জন মাঠে নামেন। কিন্তু মনোনয়ন পান মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আমির হোসেন আমিন। যা একই পৌরসভার তিন বারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র ও তার অনুসারী এবং দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মেনে নেননি। তারা সবাই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে এবং দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, মুন্ডুমালা পৌরসভায় সাইদুর রহমান দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে লড়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখালেন। তার বাড়ি পৌর সদরের মুন্ডুমালা মহল্লায়। মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নবনির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমান অবশ্য বলেন, গণজোয়ার কখনো ঠেকানো যায় না। জনগণের চাপে আমি মেয়র প্রার্থী হয়েছিলাম। এরপর আমাকে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারাও আমার বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে আমাকে বহিষ্কার করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণ নিজেদের সিদ্ধান্তেই রায় দিতে পেরেছেন। তবে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় নৈশপ্রহরীর চাকরিটা তিনি শিগিগরই ছেড়ে দেবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি তানোর উপজেলার দুবইল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘সাইদুরের মতো একটা লোক মেয়র হওয়া মানে আমাদের মুখে চুনকালি মাখা। সে নাকি একটা কলেজের প্রফেসর! আসলে সে কলেজে রাতের পাহারাদারের চাকরি করে। সে মেয়র হলে এ রকম একটা লোকের কাছ থেকে আমার-আপনার চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিতে হবে। এক বার ভাবুন ব্যাপারটা। ওর বউ পৌরসভাতে আড়াই কোটি টাকার ঠিকাদার। পৌর আইন অনুযায়ী সে পৌরসভার নির্বাচন করতে পারে না। তথ্য গোপন করে নির্বাচনে গেছে। মানে স্বামী হবে মেয়র, বউ হবে ঠিকাদার। কী হবে আপনারা বুঝতে পারছেন?’