দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ক্যাসিনো খেলে কেউ হয়েছেন বাদশা, আবার কেউ হয়েছেন পথের ফকির। এই ক্যাসিনো খেলা অনেকটা বিলিয়ার্ড খেলার মত। ক্যাসিনোর বিষয়ে জিজ্ঞাসার জবাবে হাইকোর্টে দুদক কৌসুলি এ কথা বলেন।
এদিকে ক্যাসিনোর অর্থ মানি লন্ড্রারিংয়ের অপরাধ কিনা সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জুয়া খেলা সংক্রান্ত আইন ও উচ্চ আদালতের ঘোষিত রায়ও উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। ক্যাসিনোকান্ডে ধৃত এক আসামির জামিন শুনানিতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে দুদকের কাছে আইনি ব্যাখ্যা চায় হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, আমরা যদি এই মামলায় একটা সিদ্ধান্ত দিতে পারি তাহলে তা অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে অনুসরন করা যাবে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই ব্যাখ্যা চান।
২০১৯ সালে দেশে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ক্যাসিনোকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঐ গ্রেপ্তারের তালিকায় রয়েছেন ঢাকার ওয়ান্ডারর্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকার। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে অর্থ পাচারের অপরাধে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। সূত্রাপুর থানায় করা এক মামলায় আসামি রুপন ভূইয়া ও সাইফুল ইসলামের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জয় গোপালের নাম আসে।
এরপরই তাকে আসামি করা হয়। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, জয় গোপাল ওয়ান্ডার্স ক্লাবে অর্থের বিনিময়ে ক্যাসিনো খেলার সুযোগ করে দিয়ে অপরাধে সহায়তা করেছেন। আর অর্থ পাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। জয়গোপাল সরকারসহ অন্যান্য সকল আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে মতিঝিল ওয়ান্ডার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো খেলা পরিচালনা ও তাতে সহায়তা করার বিষয়ে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব মামলায় হাইকোর্টে জামিন চান এই আসামি।
শুনানিতে দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, ক্যাসিনো খেলার জন্য তো মামলা হয়নি। মানি লন্ড্রারিং আইনে মামলা হয়েছে অর্থ বেআইনি স্থানান্তরের জন্য। আর ঐ অর্থের উৎস হলো ক্যাসিনো। আর আসামিরা সংঘবদ্ধভাবেই এই অপরাধ সংঘটন করেছে।
জবাবে গোপালের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, এসব ক্লাবে যেখানে হাউজি খেলার সুযোগ আছে। সেখানে ক্যাসিনো নতুন আবিস্কার। ক্যাসিনোও একটা গেম। এটা কোন অপরাধ নয়। ক্যাসিনো খেলা অপরাধ এটা আইনে কোথায় বলেছে? এরপরই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য দুদক কৌসুলিকে বলা হয়।
পরে দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘জাফরউল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় হাইকোর্ট বলেছে লটারি এক প্রকার জুয়া। এটা দন্ডবিধির ২৯৪(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লটারি মত কোন কিছু কনট্রাক্ট করা হয় তাহলে তাও অবৈধ।
ইত্তেফাক/এনএ
