প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার হচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। মুজিববর্ষে বাংলায় কেউ গৃহহীন থাকবে না। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার গৃহহীনকে ঘর দেওয়া হয়েছে।’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিএনপির নেতৃত্বশূন্যতার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সমর্থন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আজকে সেই দশা। তারা যত বক্তৃতা দিক আর যত কথাই বলুক না কেন, তাদের নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যখন একটা দলের নেতা, তখন তাদের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস কিছুই থাকে না।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেহেতু সেবা পেয়েছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, কাজেই স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে, যার প্রতিফলন আমরা দেখলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে।’
১০টা হোন্ডা ২০টা গুন্ডা দিয়ে নির্বাচন
করার দিন শেষ
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে। এখন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হচ্ছে, যেখানে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। অতীতের নির্বাচনকালীন প্রহসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘১০টা হোন্ডা ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা’—সেদিন আর এখন নেই বা ভোট বন্ধ থাকলেও একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো, সেই দিনও নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক কথা। আমাদের দুর্ভাগ্য ও হাসি পায় যে যাদের গায়ে হাজারো কাদার ছিটা, তারা আবার বড় কথা বলে কোন মুখে?’ তিনি বলেন, ‘আজকাল অনেক সমালোচনা শুনি, অনেক প্রশ্ন বিএনপি নেতারা করেন। জানি না তারা আয়নায় নিজেদের চেহারাটা ভালোভাবে দেখেন কি না।’ খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মেকআপের জন্য চেহারা আয়নায় দেখলেও নিজেদের কাজটাকে তারা দেখেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে এত কথা, অথচ এরকম একটা কাজ নিজস্ব অর্থায়নে করলাম। সেটার প্রশংসা তো করতেই পারল না। উলটো বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে। কেউ উঠবেন না।’ তিনি বলেন, ‘তাহলে নদীটা পার হবে কিসে? যদি নৌপথে যেতে হয়, তাহলে নৌকায় যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নৌকা অনেক বড়, কোনো অসুবিধে নেই। সবাইকে নেব, তবে দেখে নেব, কেউ আবার নৌকায় বসে যেন নৌকা ফুটো না করে।’
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে
ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের ধাক্কা সামলাতে আমরা ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি। সঙ্গে প্রণোদনা তো ছিলই। ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ শুনেছি। এখন তো ভ্যাকসিন এসেছে। ভ্যাকসিন নিজেই সেসবের উত্তর দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমরা ক্রয় করেছি। এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর খারাপ কোনো রিঅ্যাকশনের কথা শোনা যায়নি। তার পরও আমরা মনিটর করছি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। এ নিয়ে দেশে প্রশংসা শুনিনি, কিন্তু জাতিসংঘের মহাসচিব প্রশংসা করেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার ভ্যাকসিন যারা নিচ্ছেন তাদের এখনো মাস্ক পরে থাকতে হবে, সব সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে একদা রেলশ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে কর্মচ্যুতি ঘটিয়ে রেল বন্ধের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি সরকারে এসেই নতুন নতুন রেল স্টেশন স্থাপন, রেলের নতুন ইঞ্জিন ও ক্যারেজ ক্রয়ের মাধ্যমে রেল পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। পদ্মা সেতু নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঢাকা থেকে রওনা হয়ে আপনারা যদি মুন্সীগঞ্জ সেতুর পাড় পর্যন্ত যান, তাহলেই দেখবেন রাস্তাটা কী রকম করেছি। এটা আদৌ বাংলাদেশ বলে মনে হবে না।’ এ প্রসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে এবং কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রচেষ্টা থাকলে যে উন্নয়নটা করা যায়, সেটাই আমরা প্রমাণ করেছি।’
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে
প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনা পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন ঘটলে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে উল্লেখ করে বলেন, ‘শতভাগই পাশ করানো হয়েছে, কিন্তু তারা যখন শিক্ষা নেবে তখনই কে টিকবে আর কে টিকবে না, সেটা যাচাই করা যাবে। আর স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না যেতে পারায় শিক্ষার্থীদের যে দুঃখ, এইচএসসির ফলাফলে সেটা দূর হবে।’ যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে লক্ষ্য ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সংসদনেতা।
