মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের পর সাবেক স্টেট কাউন্সিলর অং সা সু চি কোথায় আছেন তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে সু চিকে তার কম্পাউন্ডের সামনে হাঁটতে দেখা গেছে বলে এক প্রতিবেশি জানিয়েছেন। সু চির দল এনএলডি তার মুক্তি দাবি করেছে। এমপিদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৪৯ বছরের জান্তা শাসনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই অভ্যুত্থান হুট করে কেন হলো সে প্রশ্ন ঘুরছে দেশটির নানা মহলে। খবর বিবিসির
সু চির বিষয়ে সরকারি তথ্য নেই
সোমবার ভোরে আটক হওয়ার পর থেকে অং সান সু চি কী অবস্থায় আছেন সে সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি। দলটির একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, দলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সু চির এখনো যোগাযোগ হয়নি। তবে সু চির একজন প্রতিবেশি তাকে দেখেছেন নিজ বাসার কম্পাউন্ডে। এনএলডির প্রেস অফিসার কি তো এএফপিকে বলেছেন, তার প্রতিবেশি একজন জানিয়েছেন যে তিনি (সু চি) ভালো আছেন জানাতে কিছু সময় কম্পাউন্ডে হাঁটাহাঁটি করেছেন। এনএলডির সূত্র গুলো অবশ্য বলছেন, তিনি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট দুজনেই গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। ‘আমাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা যদি তাদের ছবি দেখতে পেতাম তাহলেও স্বস্তিবোধ করতাম,’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন একজন এমপি। আর আটক এমপিদের রাখা হয়েছে তাদের সরকারি ভবনেই যাকে একজন এমপি আখ্যায়িত করেছেন ‘ওপেন এয়ার ডিটেনশন সেন্টার’ হিসেবে।
অং সান সু চিসহ এনএলডি নেতাদের আটকে রাখা হলেও বেশিরভাগ স্টেট মিনিস্টারকে মুক্তি দিয়ে বাসায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) গত নভেম্বরের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছিলো আর বিব্রতকর পরাজয় হয়েছিলো সেনা সমর্থিত দলের। ওদিকে এমপিদের যে ডরমিটরিতে আটকে রাখা হয়েছে তার সামনে সেনা প্রহরা বসানো হয়েছে। একজন এমপি ফোনে এএফপিকে বলেছেন, আমাদের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যেই মঙ্গলবার এনএলডির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া বিবৃতিতে সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ অন্য নেতাদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে এনএলডি বলেছে, আমরা একে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একটি কালো দাগ হিসেবে দেখছি। বিবৃতিতে একইসঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচনের ফলকে স্বীকার করে নেওয়ার আহবান জানানো হয়। অং সান সু চি ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আটক অবস্থায় ছিলেন। এবার আটকের আগ মূহুর্তে দেওয়া বিববৃতিতে তিনি জনগণকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।
স্থগিত হচ্ছে নামি কিছু কোম্পানির কার্যক্রম
রয়টার্স জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড পেট্রোলিয়াম বলেছেন সেনা অভ্যুত্থান ও অং সান সু চির আটকের পর তারা তাদের কিছু কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। জাপানি কোম্পানি সুজুকি বলছে তাদের দুটি কারখানার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। উডসাইড ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সিঙ্গাপুরের ওভারসিজ চাইনিজ ব্যাংকিং কর্পোরেশন এবং পসকো ইন্টারন্যাশনাল তাদের কার্যালয় বন্ধ করে কর্মীদের বাসা থেকেই অফিস করার নির্দেশ দিয়েছে।
