হঠাত্ করেই কাস্টমসের কড়াকড়িতে মদের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। অবৈধপথে দেশে মদ ঢোকা প্রায় বন্ধের পথে। এই সুযোগে একশ্রেণির অবৈধ ব্যবসায়ী ভেজাল মদ তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। গত এক সপ্তাহে এই ভেজাল মদপানে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেজাল মদপানে কেন মৃত্যু হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল মদে অ্যালকোহল হিসেবে মিথানল ব্যবহার করছে। যা মানব দেহের জন্য শতভাগ ক্ষতিকর। এটা পান করলে দুই ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। মিথানল মূলত কাঠ বার্নিশে কিংবা বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা কোনোভাবেই পানের উপযোগী নয়। এটার কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
গাজীপুরের সারা রিসোর্টে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন একটি নামকরা বিজ্ঞাপনী সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সেখানে রাতে তারা মদপান করেন। পর দিন ফেরার পথে ৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ায় ভেজাল মদপানে ১০ জন মারা গেছেন। গত কয়েক দিন মদপান করার পর অসুস্থ হয়ে ভাটারা থানা এলাকায় তিন জন, ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় এক জন ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। যা রাজধানীসহ দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বৈধভাবে মদ আমদানি করতে হলে ট্যাক্স দিতে হয় সাড়ে ৪০০ গুণ। যেটা একেবারেই অবাস্তব বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বারে যে মদ ৩০০ টাকায় এক পেগ বিক্রি হয়, বৈধভাবে আমদানির পর ঐ এক পেগের দাম পড়বে আড়াই হাজার টাকা। ফলে বিষয়টি নতুন করে ভাববার সময় এসেছে বলে দাবি তাদের। এমনকি ট্যাক্স যৌক্তিক করার কথাও বলছেন তারা। না হলে ভেজাল মদের পাশাপাশি ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক ছড়িয়ে পড়বে।
জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (দক্ষিণ) মানজাহারুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘মদের সংকট হয়েছে এটা আমরা বলব না। যাদের বৈধ পারমিট আছে তারা পান করতে পারেন। সেখানে কোনো সংকট নেই। এখন যারা অবৈধভাবে মদপান করেন তাদের তো কোনো সুযোগ থাকবে না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, প্রাথমিকভাবে অ্যালকোহলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো—ইথানল (যাকে ইথাইল অ্যালকোহলও বলা হয়), মিথানল (যাকে মিথাইল অ্যালকোহল, উড অ্যালকোহল, উড ন্যাপথা, উড স্পিরিটও বলা হয়) এবং রেকটিফাইড স্পিরিট (যাকে মেথিলেটেড স্পিরিটও বলা হয়)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি মদের সংকটের মধ্যে ভেজাল মদ ব্যবসায়ীরা অ্যালকোহল হিসেবে মিথানল ব্যবহার করছে। যা পান করলে দুই ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। মিথানল মূলত কাঠ বার্নিশে কিংবা বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা কোনোভাবেই পানের উপযোগী নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল বা মদ মানব দেহের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। বাংলাদেশে সাধারণত অ্যালকোহল নিষিদ্ধ। তবে বিদেশের মানুষ মদপানে পারমিটেট এবং তারা পিউর অ্যালকোহল পান করে। কিন্তু আমাদের দেশে অল্প কিছু মানুষের মদপানের পারমিট আছে। কড়াকড়ির ফলে দেশে এখন যে মদ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ভেজাল রয়েছে, যে কারণে মদে আসক্তরা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। ভেজালমুক্ত মদ হলে এক জন পুরুষ সপ্তাহে তিন ইউনিট পান করতে পারেন। নারীরা সপ্তাহে দুই ইউনিট। তবে যারা হার্টের রোগী, ডায়াবেটিকস, হাইপারটেনশন ও বয়স্করা কোনোভাবেই পান করতে পারবেন না। এছাড়া যারাই পান করতে চান তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
