কমলগঞ্জে ভালো নেই চা-শ্রমিকরা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪১

ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড শীতে কমলগঞ্জে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত ও মৃদু বাতাসে কাঁবু হয়ে পড়ছেন উপজেলাসহ বিভিন্ন বাগানের চা-শ্রমিকরা। গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে তারা খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। চা-শ্রমিক নেত্রী গীতা রানি কানু, ইউপি সদস্য ও চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন এবং চা-শ্রমিক সংঘের নেতা রাজদেও কৈরী বলেন, শীত আসার পর চা-বাগানের বয়স্ক লোকদের মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। সবগুলো চা-বাগানে একই অবস্থা। তারা আরো বলেন, মাত্র ১২০ টাকা মজুরি। এ দিয়ে খাবো কি আর কাপড় কিনবোই বা কি দিয়ে? খুবই কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চা-বাগানে প্রাথমিক চিকিত্সার কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। তারপর ক্যামেলিয়া হাসপাতাল আছে। এরপরও উপজেলা হাসপাতালে চা-বাগানের ঠান্ডায় আক্রান্ত লোকদেরও আসতে দেখা যায়।

হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড়

এদিকে মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, মির্জাপুরে গত কয়েক দিন ধরে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ঠান্ডাজনিত রোগসহ ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (পেডিয়াটিকস) এমপিএইচ (নিপসম) ডা. এ বি এম আলী হাসান বলেন, গত বেশ কিছুদিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শিশুসহ বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং বড়দের এজমাসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। আর এসব রোগীই বেশি ভিড় করছে হাসপাতালে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এবং মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক, স্বাস্থ্য সহকারী ও নার্সরা শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন।