জানুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ৫ শতাংশ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৭

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে গত জুলাই থেকে রপ্তানিতে গতি বাড়লেও অক্টোবর থেকে ফের কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ জানুয়ারিতেও পূর্বের বছরের জানুয়ারি থেকে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১৮ কোটি ডলারের যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামী মাসগুলোতেও রপ্তানি বাড়ার তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে কাঁচামালের বাড়তি দাম। সূত্র জানিয়েছে, সুতার দাম গত কয়েক মাসের ব্যবধানে অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু এই বাড়তি দাম দিতে চাইছে না বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান (বায়ার)।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরাও আগামী জুনের আগে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বাভাবিক চেহারা ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না। ফলে স্বাভাবিক রপ্তানির গতি দেখতে হলে চলতি বছরের প্রথমার্ধ পার হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের। পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, করোনার টিকার প্রয়োগ শুরু হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য চলতি বছরের প্রথমার্ধ পার হয়ে যাবে। ফলে রপ্তানির ওপরও এর প্রভাব থাকবে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত বছরের মার্চ থেকে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। অর্থবছর শেষে হিসাব করে দেখা গেল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি কমে গেছে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৭০ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের। চলতি বছরের গত সাত মাসে ২ হাজার ৩৪৮ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২৬৭ কোটি ডলারের। গত সাত মাসে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৫ কোটি ডলারের। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

রপ্তানির প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে পুরো রপ্তানিতে। ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার প্রায় চার শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ১১ শতাংশ। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, যে গতি দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী মাসগুলোতেও রপ্তানি কমতির দিকেই থাকবে। এর মধ্যে সুতার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এখন নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্রেতা বাড়তি দর দিতে চাইছেন না। আজ (গতকাল বুধবার) একজন সুইডিশ ক্রেতা আমাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো বাড়তি দর দিতে পারবেন না। এর ফলে রপ্তানিকারকদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তৈরি পোশাক ছাড়াও রপ্তানি কমার তালিকায় রয়েছে হিমায়িত মাছ ও খাদ্য ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, কৃষি পণ্য ২ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্য ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ, প্লাস্টিক ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্র, সমুদ্রগামী জাহাজ।

অবশ্য একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। গত সাত মাসে এ খাতের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ, হস্তশিল্প পণ্য ৪৮ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ৪৪ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ৫৯ শতাংশ।