সিংগাইরে ইউপি চেয়ারম্যানের কারসাজি
মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
নিজের এবং স্বজনদের বাড়ি সরকারি গভীর নলকূপ এবং কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না করে টাকা উত্তোলনের পর এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর দেওয়ার নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীন যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় উপকার ভোগীর নিয়ম অনুযায়ী ধল্লা ইউনিয়নে ২৫টি ঘরের মধ্য প্রতি ওয়ার্ডে ২টি ঘর দেওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান তার নিজ ওয়ার্ডেই এ সুযোগ বেশি কাজে লাগিয়েছেন বলে জানা গেছে। সব ওয়ার্ডে ঘর দেওয়ার কথা থাকলেও ২, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে তা কার্যকরী হয়নি। অথচ চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন ফরিদ হোসেনের নামে ১ লাখ ও তার স্ত্রী মোসাম্মত হালিমার নামে ৩ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়ািনয়ম বহির্ভূতভাবে ঘর দেওয়া হয়েছে পারিষদের চৌকিদার আনিস ও ফজিরন নামে এক নারী ইউপি সদস্যকে। অথচ ঐ নারী সদস্যের বাড়ি ঘর থাকায় তিনি সরকারি এ ঘরে থাকেন না। শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত ৩ লাখ টাকার ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন হুমায়ুন কবির নামে আরেক ব্যক্তি। অথচ হুমায়ুন কবির রংপুর জেলার লোক বলে জানা গেছে। তিনি তড়িঘড়ি ধল্লা ফোর্ড নগরের ভোটার হয়ে এই ঘরের মালিক হয়েছেন। অথচ ঐ ঘরে তিনিও কখনো থাকেন না। সেটাও এখন তালাবদ্ধ এবং পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েক দিন ধরে এক ভাড়াটিয়ে ঐ ঘরে থাকেন বলে জানা গেছে। অথচ এ ইউনিয়নে এমন লোকও আছেন যাদের জমি এবং ঘর কিছুই নেই।
স্বামী এবং স্ত্রীর নামে একই পরিবারে ঘর দেওয়ার কথা স্বীকার করে ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তারা ভুল বুঝিয়ে তার কাছে থেকে এই ঘর নিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি তিনি পরে বুঝতে পেরেছেন। তবে জানার পর কেন ব্যবস্থা নিলেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুই বলেননি। এ ছাড়া বহিরাগত হলেও হুমায়ুন কবির সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের মেকাপম্যান তাই এমপির সুপারিশে তাকে এই ঘর দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টার পরেও ফোন রিসিভ না করায় কণ্ঠশিল্পী এমপি মমতাজ বেগমের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
