দণ্ডিত ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের শুনানি তিন মাস মুলতবি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৫৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন ফেনীর সোনাগাজী থানার বরখাস্তকৃত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তার আট বছরের সাজা হয়। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন চান তিনি। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট আবেদনের ওপর শুনানি তিন মাস স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) করেন। বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।

জামিন শুনানিতে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী মুরাদ রেজা বলেন, ওসি ঐ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেনি। তার মোবাইলে করা ঐ ভিডিওটি এক জন সাংবাদিক ওসির মোবাইল থেকে নিয়ে প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে ওসির কোনো অপরাধ নেই। যদি অপরাধ হয় তা ঐ সাংবাদিকের। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, সাংবাদিকের অনুসন্ধিত্সু মন তথ্য তো খুঁজবেই, এতে অপরাধের কিছু দেখছি না। আদালত বলেন, থানার ওসি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সাধারণ কেউ নন। উনার ব্যক্তিগত মোবাইলে কেন ভিকটিমের ভিডিও ধারণ করলেন? সাইবার ট্রাইব্যুনাল এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাকে দণ্ড দিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় তার মা ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায়  অভিযোগ দাখিল করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি নিজ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা অন্যের কাছে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ওসি মেয়াজ্জেমকে ঐ বছরের ৭ ডিসেম্বর আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় দেয় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল।