চার বছর বয়সেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও শতাধিক কবিতা-ছড়া মুখস্থ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫০

রংপুর মহানগরীর ধাপ কটকিপাড়ার এক বালিকা মাত্র চার বছর বয়সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ না দেখে বলতে পারে। এছাড়া পবিত্র কোরআন শরিফের ছোট ১০টি সুরাসহ আয়াতুল কুরসি মুখস্থ তার। ছবি আঁকাতেও বেশ পারদর্শী সে। কারাতেতেও ইতিমধ্যে হলুদ বেল্ট অর্জনে সক্ষম হয়েছে মাওয়া। ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের কনিষ্ঠ এই সদস্য আবৃত্তি সংসদ. সাহিত্য সংসদসহ রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক (বাংলা) মা মনিরা আক্তারের উত্সাহ আর একান্ত প্রচেষ্টায় খুদে জান্নাতুল মাওয়ার এমন প্রতিভায় বিস্মিত অনেকেই। জান্নাতুল মাওয়ার জন্ম ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর। রংপুর নগরীর কটকিপাড়ায় তাদের বসবাস। দেড় বছর আগে রংপুরে ‘কিশোর আলো’ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ‘বীর পুরুষ’ কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক মাতানো এই খুদে মাওয়ার নখদর্পণে এখন কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’, কাজী নজরুলের ‘মানুষ’, ‘লিচু চোর’, ‘নারী’, ‘মিথ্যাবাদী’, ‘খুকী ও কাঠবিড়ালী’, রবীন্দ্রনাথের নির্ঝরের ‘স্বপ্নভঙ্গ’, ‘প্রশ্ন’, ‘সোনার তরী’, ‘ছুটি’, সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’, বেগম সুফিয়া কামালের ‘মুজিব মৃত্যুঞ্জয়ী’, সৈয়দ সামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ ছাড়াও নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুকুমার রায়, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহসহ প্রখ্যাত ৩০-৩৫ জন কবি ও ছড়াকারের শতাধিক কবিতা এবং ছড়া।

মাওয়ার গত জন্মদিনটা কেটেছে পথশিশুদের নিয়ে। কেক কাটার দিন উপস্থিত ছিল অর্ধশত পথশিশু।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হয়ে বেড়ে উঠবে মাওয়া—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তার স্বপ্ন পূরণের সারথী মা মনিরা আক্তার। তিনি বলেন, তার মেয়ে মাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে তার বাবা অর্থাত্ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ শোনানোর স্বপ্ন দেখে। প্রধানমন্ত্রী তাকে অনুপ্রাণিত করলে সে আরো বেশি এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন মনিরা।

প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর সুযোগ পেলে সারা দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে মাওয়া—এমনটাই মনে করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু। তিনি বলেন, তার যে প্রতিভা, এ জন্য তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণসহ দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের কবিতা ও ছড়া মুখস্থ করা এত ছোট বয়সে সহজ কাজ নয়। কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মাওয়ার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ। তার কাছ থেকে যখন কবিতা আবৃত্তি শুনি, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনি তখন বিস্মিত হতে হয়। তার মা মনিরা তাকে সবকিছু শিখিয়েছেন। জান্নাতুল মাওয়া রংপুরের  গৌরব।