স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্কুল খুললে ব্যবস্থা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫১

সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে স্কুল খোলার প্রস্তুতি নিতে স্কুল-কলেজগুলোকে আরো সময় দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুল খোলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্কুল খোলার জন্য স্কুলগুলো কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তা দেখার জন্য একাধিক কমিটিও কাজ করছে।

কয়েক দফায় বাড়িয়ে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত রয়েছে। আর আগে এ সময় ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু স্কুলগুলোতে ছুটি বাড়ায় স্কুলগুলোর প্রস্তুতিতেও ভাটা পড়ে। স্কুলগুলোর প্রস্তুতি দেখতে সম্প্রতি ঢাকার বাইরের কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছেন মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে খোলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খোলা যায়। যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো বিষয়ে ঘাটতি থাকলে অবহিত করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১ লাখ শিক্ষককে পুষ্টিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এই শিক্ষকরা স্কুলে পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় এক বছর স্কুলে না যাওয়ায় এবং বাসায় বন্দি থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় রাখতে শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের পরামর্শ দেবেন।

জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে স্কুল খোলার গাইডলাইন প্রকাশ করে মাউশি। ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়ে স্কুলগুলোকে গাইডলাইন মেনে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।

গাইডলাইন অনুযায়ী, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম হলে প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে সাত ফুট হলে প্রতি বেঞ্চে দুজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। এছাড়া গাইডলাইনে স্বাস্থ্যবিধির সব বিষয় তুলে ধরা হয়।

শিক্ষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে যেসব উপকরণ প্রয়োজন হবে তা ক্রয়ের জন্য স্কুলগুলোতে অর্থ বরাদ্দ নেই। এ কারণে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ চেয়েছেন তারা। এছাড়া গণসাক্ষরতা অভিযানের একটি সেমিনারে স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে তার জন্য অর্থবরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ খাতে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্কুলের নিজস্ব ফান্ড থেকে খরচের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোর ভর্তি কার্যক্রম ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। এছাড়া করোনা টিকা গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। কেবল যারা রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতা তোলেন তারাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।