সুন্দরবনে কয়েক লাখ মানুষ মিঠাপানির তীব্র সংকটে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খাল-নদীগুলোতে লবনাক্ততার পরিমাণ বিপত্সীমার মাত্রায় পৌঁছেছে। সুপেয় পানির অভাব প্রকট। ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার সুন্দরবনের ভেতরে ছিল ৬৫টি পুকুর। এসব পুকুরের পানি বনের বাঘ ও মায়াবী হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী, বনজীবী, পর্যটক ও বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিঠাপানির একমাত্র উত্স। জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া কয়েক লাখ মত্স্যজীবী, মৌয়াল, কাঠুরের রান্নাবান্না ও খাওয়ার পানির ভরসা বনের গহিনের এই পুকুরগুলো। এসব পুকুরের অধিকাংশই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণিগুলো সুপেয় পানির সংকটে আছে। কয়েকটি পুকুরের প্রচীর ভেঙে যাওয়ায় অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারের লোনাপানিতে ভরে গেছে। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে অবশেষে আমাদের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাপ্রাচীর সুন্দরবনের গহিনের ৮৮টি পুকুর খনন ও পুনঃখনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এজন্য ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব পুকুর খনন ও পুনঃখননের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।

এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের চিফ কনজারভেটর মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, এ উদ্যোগ সফল হলে সুন্দরবনের প্রায় সব প্রজাতির প্রাণীর পানির চাহিদা মিটবে। বন্যপ্রাণী থাকে এমন এলাকায় পুকুর খনন ও পুনঃখনন করা হচ্ছে এবং এ কাজ দ্রুতই শেষ করা হবে।

সুন্দরবনের কর্মকর্তারা জানান, এই পুকুরগুলো খনন করা হলে প্রায় ৪০০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সুপেয় মিঠাপানির চাহিদা পূরণ হবে। পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বনজীবী ও পর্যটকদেরও পানির চাহিদা পূরণ হবে। ৮৮টি পুকুরের মধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলায় দুটি ও বগীতে নতুন করে তিনটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। এই রেঞ্জের ২৪টি পুকুর পুনঃখননের মধ্যে কচিখালী অভয়ারণ্যে চারটি, কটকা অভয়ারণ্যে চারটি, দুবলা এলাকায় তিনটি, শরণখোলা রেঞ্জ সদরে দুটি ও দাশেরভারানীতে দুটি। এছাড়া একটি করে পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে ডুমুরিয়া, চরখালী, তেরাবেকা, চান্দেশ্বর, শাপলা, ভোলা, শেলারচর, কোকিলমুনি ও সুপতিতে। চাঁপাই রেঞ্জে পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে ২৬টি। এর মধ্যে রয়েছে ধানসাগরে তিনটি, গুলিশাখালীতে তিনটি ও আমুরবুনিয়ায় দুটি। একটি করে পুকুর পুনঃখনন করা হচ্ছে চাঁদপাই, ঢাংমারী, লাউডোপ, জোংড়া, ঘাগড়ামারী, নাংলী, হরিণটানা, কলমতেজী, তাম্বুলবুনিয়া, জিউধরা, বরইতলা, কাটাখালী, শুয়ারমারা, মরা পশুর, বৈদ্যমারী, আন্ধারমানিক, হারবাড়িয়া, নন্দবালা ও চরাপুটিয়ায়। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে একটি নতুন পুকুর খনন ও ৩৪টি পুকুর পুনঃখনন এবং ৩০টি পুকুরের পাকা ঘাট নির্মাণ করা হবে।

পরিবেশ, বন ও আবহাওয়া পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, সুন্দরবন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে পুকুর খননের কাজ শুরু হচ্ছে। বনের ভেতরে মিঠাপানির এলাকা আরো বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ ভারতের মধ্যে।