মিডটার্ম পরীক্ষার সময় হঠাত্ কমিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩১

স্নাতক মিডটার্ম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনলাইনে পাওয়ার ২৭ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে উত্তরপত্র পাঠানোর কথা ছিল পরীক্ষার্থীদের। বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ২০০ করে শিক্ষার্থী। অনলাইনে এক ঘণ্টায় একযোগে এত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে এ নিয়ম করা হয়েছিল। এর জন্য শিক্ষার্থীদের বড় সিলেবাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাত্ করে গত মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত পালটে যায়। বলা হয় এক ঘণ্টায় দিতে হবে পরীক্ষা, কিন্তু সিলেবাস সেই আগেরটাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স বিভাগের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, জানুয়ারির ১৮ তারিখ ২৭ ঘণ্টার মিডটার্ম পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানো হয় তাদের। আগের দিন বেলা ১১টায় প্রশ্নপত্র পাঠানোর পর পরের দিন দুপুর ২টায় উত্তরপত্র জমাদানের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সে অনুযায়ী সিলেবাসও দেওয়া হয় বড় আকারে। বড় আকারের সিলেবাসেও কোনো সমস্যা ছিল না।

কিন্তু পরীক্ষার মাত্র পাঁচ দিন আগে গত মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানানো হয় বিভাগের পক্ষ থেকে। আগের সিলেবাস রেখেই এক ঘণ্টায় পরীক্ষা গ্রহণের কথা বলে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, হঠাত্ পাঁচ দিনের নোটিশে এক ঘণ্টার মধ্যে এত বড় সিলেবাসে আমাদের পক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। যেখানে একটি বড় অংশ অনলাইনে ক্লাস করতে পারে না। সেখানে ২৭ ঘণ্টা পরীক্ষা হবে ভেবে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস বড় করা হয়। এর মধ্যে আমাদের রিপোর্ট, অ্যাসাইনমেন্টের কাজ দেওয়া হয়। যার কারণে আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণের সময় পাইনি।

তারা জানান, এর আগে আমাদের বিভিন্ন কুইজ পরীক্ষায় ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২০ থেকে ১৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পেরেছিল। যেখানে শিক্ষার্থীরা এখনো গ্রামে অবস্থান করছে, ইন্টারনেট সংযোগের যথেষ্ট অভাব, সেখানে মিডটার্ম পরীক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এক ঘণ্টার মধ্যে একযোগে ২০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। গ্রামে থেকে এক ঘণ্টায় সব শিক্ষার্থীর পক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণও সম্ভব নয়। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হলে আমাদের সিলেবাস পরিবর্তন করে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত আকারে এবং দূরবর্তী শিক্ষার্থীরা যাতে উপস্থিত থাকতে পারে সে লক্ষ্যে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেওয়া।

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাব্বির আহমদকে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে মেসেজ পাঠিয়ে ও অনেক বার কল দিলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈন জানান, ‘এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে আমি খোঁজ নিচ্ছি। কোভিডকালে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবেই আমরা কাজ করব।’

উল্লেখ্য, এক কোর্সে পরপর দুই বার ফেল করে মানসিক যন্ত্রণায় ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেন বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরুণ হোসেন। তখন এ বিভাগের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।