নতুন মুদ্রানীতি

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩২

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের অর্থবছরের সঙ্গে মিল রেখেই এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবে কমানো হয়েছে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা। কারণ, সরকার চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার বেশি ঋণ নেওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া এ নিয়মে জুলাই মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আর্থিকনীতি কেমন হবে সে বিষয়ে অর্থবছরের মাঝে বা যে কোনো সময় নীতি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দামের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ২০২১ সালের মধ্যে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে মনে করে মুদ্রানীতি কমিটি। দেশের অর্থনীতির প্রকৃত খাতের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা, আমদানি-রপ্তানিসহ বৈশ্বিক চাহিদা পরিস্থিতি বিবেচনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মুদ্রানীতি কমিটির মতে, শিগিগর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ আসবে। সেই হিসেবে দেশেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে, আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কারণ, লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে, আর রপ্তানি আয়ও তেমন কমেনি।

নতুন মুদ্রানীতিতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যও ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। কারণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে কম ঋণ নিচ্ছে। আগে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, এখন তা কমিয়ে ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্য ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি ঋণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি আগের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখেছে কমিটি।