বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন। বরযাত্রীর অপেক্ষায় কনে পক্ষের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন। বরপক্ষ আসলেই শুভ কাজ অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক তখনই বিয়ে বাড়িতে হাজির হলেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ।
স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট যাচাই বাছাই করে দেখা যায় কনের বয়স মাত্র ১৫ বছর। অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করায় কনের পিতা জালাল উদ্দীনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গুইমারার কালাপানি গ্রামে।
জানাযায়, জালাল উদ্দীনের মেয়ে জয়নব বিবির(১৫) সঙ্গে একই উপজেলার সিন্ধুকছড়ি গ্রামের বাবুলের ছেলে আবু বকরের বিয়ের কথাবার্তা ঠিক হওয়ার পর পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কনের পরিবার। সে অনুযায়ী কনের বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত হন যথা সময়ে। বরযাত্রীর জন্য অপেক্ষায় ছিল কনে পক্ষ। ঠিক এমন মুহূর্তে বরের পরিবর্তে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন থানার ওসি(তদন্ত) শফিকুর রহমান, ইউপি মেম্বার আরমান হোসেন, জালিয়াপাড়ার সমাজপতি আব্দুল কাদের।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তুষার আহমেদ জানান, হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী জয়নব বিবিকে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দেয়ার আয়োজন করেছিল তার বাবা জালাল উদ্দীন। অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০১৭ সালের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের ৮ ধারায় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রাপ্তবয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকাও দেন তিনি।
ইত্তেফাক/এমআর
