মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মন্ত্রিসভায় আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কোনো সমকামি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলো ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ ব্যান্ড নগরীর সাবেক মেয়র বুটিগিগ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম সমকামি মন্ত্রী। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাছাই পর্বে প্রার্থী ছিলেন তিনি।
গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসাবে বাছাইপর্বে নির্বাচনে অংশ নেন। ৩৯ বছর বয়সী বুটিগিগ একজন প্রকাশ্য সমকামি। নির্বাচনের আগে জো বাইডেন ঘোষণা দেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে পিট বুটিগিগকে তার মন্ত্রিসভায় আনবেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনে টান্সপোর্টেশন মন্ত্রী পদে সিনেট আজ তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। পিট বুটিগিগ শুধু ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রথম সমকামি মন্ত্রী নন, তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মন্ত্রীসভায় সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রীও। ৩৯ বছরের পিটকে বাইডেন প্রশাসনে মিলেনিয়াল প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সিনেটে ৮৬-১৩ ভোটে তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত হয়।

সিনেট শুনানিতে দেওয়া বক্তব্যে পিট বুটিগিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টির জন্য অবকাঠামো খুবই জরুরি বিষয়। পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিশ্রুতি, মহামারি মোকাবিলাসহ অন্য বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন তিনি। ৫৫ হাজার কর্মী ও বার্ষিক বিশাল বাজেটের ফেডারেল পরিবহন বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন পিট বুটিগিগ।
পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার পর দেওয়া এক বক্তব্যে পিট বুটিগিগ বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমকামিদের জন্য আজকের ঘোষণা কতোটা আনন্দের, তা আমি জানি।’ পিট বলেন, ১৭ বছর বয়েসে টেলিভিশন সংবাদে দেখেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন মার্কিন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জেমস হোরম্যানের নাম ঘোষণার বিষয়টি। এখন সে দিনটির কথা মনে পড়ছে। ১৯৯৮ সালে সমকামী জেমস হোরম্যানের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি তৎকালীন সিনেট সদস্যরা অস্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে সমকামিদের প্রকৃত সমস্যা যে কত গভীর, তা তিনি তখনই বুঝেছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিয়োগ সমকামীদের সাহস জোগাবে।
এদিকে পিটের নিয়োগে সমকামী গ্রুপগুলো উচ্ছ্বসিত। নাগরিক অধিকারের পক্ষে এ বিষয়কে একটি অগ্রসর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শীর্ষ মার্কিন ‘লেসবিয়ান গে বাই সেক্সুয়েল ট্রান্সজেন্ডার কুইয়ার’ গ্রুপের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট কেইট এলিস পিট বুটিগিগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সমকামিদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াই আরেকটি সাফল্যের ধাপে পৌঁছেছে।’
ইত্তেফাক/এএইচপি
