শীতের প্রকোপ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০০

উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ শীতে কাঁপছে। জনজীবনে এর কতটা প্রভাব পড়েছে সেটি জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত

আজ প্রকাশিত হলো

 

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ছিন্নমূল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা হ্রাস পায় এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়ে যার ফলে তাদের মৌলিক চাহিদার ঘাটতি দেখা যায়। তাছাড়া অনেকের শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক থাকে না এবং তারা জরাজীর্ণভাবে জীবনযাপন করে। শীতের প্রকোপে শীতজনিত রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, বেশি আক্রান্ত হয় শিশু এবং বয়স্ক মানুষজন। সুতরাং দেশের উচ্চবিত্ত মানুষজন যদি তাদের জন্য সাহায্যের  হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে এই সকল অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।

ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা

ঝিকরগাছা, যশোর 

 

বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, হাটবাজারসহ উত্তর অঞ্চলের ভাসমান টোকাই এবং গ্রামের দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষগুলো শীতে গরম কাপড়ের অভাবে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। গৃহহীনেরা খড়কুটা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। অনেকে পেটের দায়ে ভোরে কাজে গেলেও শারীরিকভাবে কষ্ট, দুর্ভোগ ও নানা রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছেন। শীতের তীব্রতার কারণে ঠিকমতো কাজকর্ম করতে না পারায় অনেক পরিবারে খাদ্যাভাব দেখা দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থা বা সংগঠন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে অর্থ ও পুরোনো কাপড় সংগ্রহ করে শীতার্তদের মধ্যে বিতরণের সুব্যবস্থা করে মহত্ত্বের  পরিচয় দিতে পারে। রাষ্ট্রীয় সাহায্যের পাশাপাশি শীতার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে বিত্তবানরা আরো এগিয়ে আসবেন, এই প্রত্যাশা সবার।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

মাঘ মাস শেষ হতে চলেছে। গ্রামীণ জনপদে আক্ষরিক অর্থে মাঘ মাস আসে শীতের দাপট নিয়ে। শীতের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের কষ্ট। শৈত্যপ্রবাহের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা। শীত মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি থাকে খুবই যত্ সামান্য। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায় চরমে। তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে আশঙ্কাজনক হারে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি থাকে। এ সময় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বৃত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব। দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষ, যাদের শীতবস্ত্র নেই, শীত নিবারণের জন্য সামান্য একটি কম্বল নেই সেইসব মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান মানুষদেরও এ সময় এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায়ই শীতের অবর্ণনীয় কষ্ট থেকে দরিদ্র মানুষদের রক্ষা করা সম্ভব।

মো. জিল্লুর রহমান

সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সারা দেশ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিম শীতে সবচেয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এই শীতে সবচেয়ে কঠিন জীবনযাপন করছে হতদরিদ্র্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শীতে তারা কাজকর্ম ঠিকমতো করতে পারছে না। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

বৈশ্বিক আবহাওয়ার যে পরিবর্তন ঘটেছে এবারের শীতের তীব্রতা সেটিই প্রমান করছে। উত্তরবঙ্গের অধিবাসীরা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভব করেন। তবে শীতজনিত কারণে অধিক সংখ্যক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর খবর তেমন পাওয়া যায়নি।

মাখরাজ খান,

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

উত্তরের জনপদসহ সারাদেশেই তাপমাত্রা কমে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। সন্ধ্যা থেকে প্রায় সকাল পর্যন্ত  অত্যধিক ঠান্ডার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। আবার, দিনে সূর্যের লুকোচুরি ও শৈত্যপ্রবাহ শীতের কষ্ট আরো প্রলম্বিত করছে। এসবের সঙ্গে অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। সবমিলিয়ে, ক্রমশ বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্যাঞ্চলসহ দেশের যেসব মানুষের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই, তাদের দুর্ভোগ চরমে। হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল গোষ্ঠীর মানুষের দুর্দশার কথা তো বলাই বাহুল্য। শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগ ও ডায়রিয়ার হারও বেড়েছে। অন্যদিকে, নিরবচ্ছিন্ন ঘন কুয়াশার কারণে সড়কের যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতায় পথ চলতে হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

আবু ফারুক

বনরুপা পাড়া  সদর, বান্দরবান।

হাড় কাঁপানো প্রচণ্ড শীতের প্রকোপে কাবু হচ্ছে উত্তরবঙ্গের মানুষ। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মতো উত্তরাঞ্চলেও প্রচণ্ড শীত বিরাজ করছে। শীতের এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। আমাদের সবার উচিত শীতার্ত মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানো।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা,  রাজশাহী।

উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ শীতে কাঁপছে। হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শীত মৌসুমে শিশু, বৃদ্ধসহ নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ সীমাহীন। তাই শীতার্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা সময়ের দাবী।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শীতের তীব্রতা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই শীতে জীবিকা অর্জন করা খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ বেড়েছে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

মিরপুর,ঢাকা

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের সর্বত্রই শীতের বেশ প্রকোপ বাড়ছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ ও শীতজনিত রোগও বাড়ছে। সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্যবানদের  উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফজু)

রাজশাহী-৬২০২

শীতে শিশু ও প্রবীণরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতে অনেক মানুষ ভোগান্তির  মধ্যে পড়েন। আমাদের সমাজের বিত্তবানরা অসহায়, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ালে গরিব, নিম্নবিত্তদের কষ্ট দূর হতে পারে।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

বারিধারা গুলশান, ঢাকা

শীত মৌসুমে গরিব, দুঃখী মানুষের মাঝে সরকারিভাবে তেমন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে না। এতে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব, দুঃখী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্ররা। তাই আমাদের প্রত্যাশা— আমরা যারা বিত্তবান, তারা যেন অসহায়ের পাশে দাঁড়াই।

কবি আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

শীতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সারা দেশের মানুষ। অসহায় দরিদ্র মানুষ বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই। শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করা একান্ত প্রয়োজন। করোনার কারণে মানুষের আর্থিক অবস্থা এমনিতেই খারাপ, তার ওপর শীতের প্রকোপ, এ অবস্থায় সামর্থ্যবানদের  উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

পুরোদমে চলছে শীতকাল আর উত্তরবঙ্গে বরাবরই শীত একটু বেশি। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে শুরু করেছে । শীতার্ত মানুষ কতটা দুর্বিষহ জীবন যাপন করে, তা শহর-নগরের ফুটপাত, রেলস্টেশনে না গেলে বোঝা মুশকিল। শীতার্ত মানুষের দুর্বিষহ জীবনের কথা ভেবে তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সময়ের দাবী।

বিলকিছ আক্তার

কাউনিয়া, রংপুর।

আমাদের দেশে শীতের স্থায়িত্ব যদিও স্বল্পসময়ের জন্য কিন্তু তার প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের স্বল্পআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়োবৃদ্ধ নাগরিকদের শীতকালীন দুর্দশা অসহনীয়। এমতাবস্থায় বিত্তবানেরা শীতবস্ত্র দিয়ে যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে  দেন তাহলে  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ অনেকেই শীতের প্রকোপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হবেন।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বেগমগঞ্জ,  নোয়াখালী।

সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে দরিদ্র ও ঘরহীন মানুষসহ প্রায় সবার জীবনযাত্রা। তীব্র শীত ও করোনার সংক্রমণ জনজীবনকে একরকম স্থবির করে রেখেছে। প্রচণ্ড কুয়াশায় রাস্তাঘাটে চলাচলরত ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের গতি কমলেও বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম

হিমালয় পর্বতাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা শৈত্যপ্রবাহ অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশের উত্তর সীমানা ঘেঁষা জনপদের কয়েক লাখ মানুষসহ সারা দেশের জনজীবনকে করে তুলেছে পর্যুদস্ত, সংকুচিত ও বিপদাপন্ন। ঠান্ডার প্রচণ্ডতায় যাপিত জীবনের স্বাভাবিকতা স্থবির হয়ে যাওয়ায় দেশ জুড়ে দারিদ্র্যক্লিষ্ট, সহায়সম্বলহীন ও সুযোগবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এখন সকরুণ। এছাড়াও শীতের ঘোরতর প্রকোপে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধির সক্রিয় উপস্থিতি ও সংক্রমণের পারদ বরাবরের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। তদুপরি দেশের শীতার্ত মানুষের শীতবস্ত্রের অপ্রতুলতা, রুজি-রুটির সংকট ও নিত্যনৈমিত্তিক কাজকর্মের নিশ্চলতা একটি চিরায়ত চিত্র। তাই, সামর্থ্যবানদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত সহায়তা পরিকল্পিত উপায়ে সমন্বিতভাবে যথাসময়ে শীতপীড়িতদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি।

ওয়ারেছ আলি খান

সদর, রংপুর

শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে। ঠান্ডায় শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে জনজীবন প্রায় থেমে গেছে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা

হাঁড় কাঁপানো কনকনে শীত ও শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তীব্র শীত থেকে রেহাই পাচ্ছে না দরিদ্র-হতদরিদ্র্য ও গ্রামের কৃষক। শীতার্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা সময়ের দাবী।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরবপুর, ঝিনাইদহ

উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ এখন শীতের চাঁদরে ঢাকা। তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা—সবশ্রেণির মানুষ শীতার্তদের পাশে এসে দাঁড়াবে।

বজলুল করিম

ধানমন্ডি, ঢাকা