সমাজে ভালো মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকে কিছু খারাপ মস্তিষ্কের মানুষ। যাদের নিয়ে জনসাধারণ আতঙ্কিত থাকে, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে বিচলিত করে। সমাজে যারা ছিনতাই বা ডাকাতি করে, জনসাধারণকে আতঙ্কে রাখে কিংবা শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতিতে ফেলে, তাদের বসবাস আমাদের আশেপাশেই। ছিনতাইকারীরা বিশেষত সন্ধ্যা, রাত, ভোর কিংবা তাদের সুযোগমতো সময় বেছে নিয়ে ছিনতাই বা ডাকাতিতে নেমে পড়ে। পথচারীদের সঙ্গে থাকা মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মানিব্যাগ, অলংকার ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়। অনেক ছিনতাইকারী পথচারীদের শারীরিকভাবে আঘাত করে থাকে, যা কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ভালো মানুষের অভিনয় করে সর্বস্বান্ত করে যায়। বাস, রিকশা, ট্রেন থেকে মোবাইলফোন, ব্যাগ বা মূল্যবান জিনিস হঠাত্ করে টান দিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। স্বাধীন দেশে প্রতিটা মানুষেরই স্বাধীনভাবে, নিরাপদে চলাফেরার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ছিনতাইকারীরা মানুষকে করে তুলছে অনিরাপদ, আতঙ্কগ্রস্ত। এ পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবু কমছে না ছিনতাই। তাই ছিনতাই বন্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। ছিনতাই বন্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। প্রতিটি গ্রাম-মহল্লায় ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ছিনতাইকারীদের ধরে আইনের হাতে তুলে দিতে। সমাজ হোক ছিনতাইমুক্ত আর নিরাপদ। মানুষ জীবন যাপন করুক শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে।
মো. ওমর ফারুক
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা কলেজ
