সিরাজগঞ্জে যমুনায় ভাঙন

ঘরবাড়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃষিজমি হুমকিতে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৩

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্তত ১০০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে যমুনা গর্ভে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তিনটি গ্রামের মানুষ। সোমবার সরেজমিনে সদর উপজেলার ভাঙন কবলিত পাঁচঠাকুরী, বালিঘুগরী ও বাহুকা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে বড় বড় ফাটল ধরেছে। বালিঘুগরী পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। ভাঙনের মুখে রয়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুটি মসজিদ, একটি মাদ্রসা, ঈদগাহ মাঠ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ব্যক্তি আবু সাইদ (৬৮) বলেন, প্রতিদিন ফসলি জমি যমুনাগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে এই অঞ্চলে নদীতে স্রোত সৃষ্টি হওয়ার দৃশ্য ইতিপূর্বে কমই দেখেছি। গত দুই মাসে তিনটি গ্রামের অন্তত ৩০ পরিবারের ঘরবাড়ি ও ১০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে বোরো ধান রোপণ করেছিলাম কিন্তু এলাকার কৃষকদের সবার চোখের সামনেই নদীতে ধসে পড়েছে। এলাকাবাসী জনায়, এই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছে। তারা বলেন, উজানে একটি ক্রসবার রয়েছে। সেই ক্রসবারের কারণে বেশ কয়েকটি মৌজা ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে। বালিঘুগরী এলাকাবাসীও এ ধরনের ক্রসবারের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঐ এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য ৫৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শিগিগর তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে। ঐ এলাকায় একটি ক্রসবার নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ কারার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।  বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এই এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরিভাবে একটি ক্রসবার নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।