দিনের তৃতীয় ওভারে লিটন দাসের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন গ্যাব্রিয়েল বল হাতে গতির ঝড় তুলছেন। ক্যারিবিয়ান এ ফাস্ট বোলারের করা দিনের চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজ দেখিয়েছেন তার ব্যাটিং সামর্থ্যের সুন্দরতম অংশ।
গ্যাব্রিয়েলের শর্ট অব লেন্থ বলটা অফ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে তীব্র গতিতে ছুঁটছিল। ব্যাক ফুটে গিয়ে মিরাজের করা পাঞ্চটা ছিল এক কথায় অনন্য, দুর্দান্ত। পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যানের ছবি এই শটে ফুটে উঠেছে। দুরন্ত গতিতে বল সীমানা পার হয়।
দৃষ্টিনন্দন ঐ শটের পর গতকাল চট্টগ্রামে আলো ছড়িয়েছে মিরাজের ব্যাট। সাগরিকার ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটসম্যান মিরাজের সামর্থ্য মঞ্চায়িত হয়েছে। গতকাল ব্যাট হাতে পেস-স্পিনের বিপক্ষে ফ্লিক, সুইপ, কাট, গ্লাইড, ইনসাইড আউট, ড্রাইভ—সবই ছিল তার ব্যাটিংয়ে। নিজের ভান্ডারে থাকা সব ধরনের শটই খেলেছেন তিনি।
দিনটা সেঞ্চুরির আলোয় রাঙিয়েছেন মিরাজ। ক্যারিয়ারের ২৩তম টেস্টে পেয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। আট নম্বরে নেমে তার করা সেঞ্চুরিতেই চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৩০ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। টেস্টে আটে নেমে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান মিরাজ। এর আগে খালেদ মাসুদ পাইলট, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সোহাগ গাজী সেঞ্চুরি করেছিলেন আট নম্বরে।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন মিরাজ। ২০১৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তারপর যুব ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট, জাতীয় দল মিলে আট বছরে কোনো সেঞ্চুরি পাননি। গতকাল কাটালেন সেঞ্চুরির খরা।
ব্যাটিংয়ে নেমে কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসটাকে টেনেছেন মিরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অফস্পিনার হিসেবে আবির্ভাব হলেও ব্যাটসম্যান সত্তার ঝলক মাঝে মধ্যে দেখিয়েছেন তিনি। গতকাল পূর্ণরুপটাই মেলে ধরেছেন। সাকিবের ৬৭, তাইজুলের ৪৪, নাঈমের ৫৭ ও মুস্তাফিজের সঙ্গে ১৪ রানের জুটি গড়েন। ৯৯ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি তুলে নেন ১৬০ বলে। ১০৩ রানের ইনিংসে মেরেছেন ১৩টি চার।
সেঞ্চুরি পেয়ে তৃপ্ত মিরাজ। দিন শেষে তিনি বলেছেন, ‘এরকম একটা সেঞ্চুরি... খুব ভালো লাগছে এবং আসলে অবিশ্বাস্য।’ এ সেঞ্চুরিতে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হওয়ার আত্মবিশ্বাস জন্মেছে মিরাজের মনে। এ তরুণ বলেছেন, ‘আমার নিজের জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। আমি নিজে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু এখন আমার মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে যদি আমি ব্যাটিং নিয়ে আরো পরিশ্রম করি, কাজ করি তাহলে অবশ্যই ভালো অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।’
শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে জাতীয় দলে নিজের জায়গা দেখেন না মিরাজ। অলরাউন্ডার হিসেবেই তাই নিজেকে গড়ে তোলার আশায় আছেন তিনি।
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রথম টেস্ট, দ্বিতীয় দিন
ভেন্যু : জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম।
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
(প্রথম দিন শেষে, ২৪২/৫; সাকিব ৩৯*, লিটন ৩৪*)
রান বল ৪ ৬
সাকিব ক ব্রেথওয়েট ব কর্নওয়াল ৬৮ ১৫০ ৫ ০
লিটন ব ওয়ারিকান ৩৮ ৬৭ ৬ ০
মিরাজ ক সাব (হজ) ব কর্নওয়াল ১০৩ ১৬৮ ১৩ ০
তাইজুল ক দা সিলভা ব গ্যাব্রিয়েল ১৮ ৭২ ১ ০
নাঈম ব বনার ২৪ ৪৬ ৪ ০
মুস্তাফিজ অপরাজিত ৩ ১১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ২, লেবা ৭, ও ৫, নো ৫) ১৯
মোট (১৫০.২ ওভারে অলআউট) ৪৩০
উইকেট পতন : ৬-২৪৮ (লিটন), ৭-৩১৫ (সাকিব), ৮-৩৫৯ (তাইজুল), ৯-৪১৬ (নাঈম), ১০-৪৩০ (মিরাজ)।
বোলিং: রোচ ২০-৫-৬০-১, গ্যাব্রিয়েল ২৬-৪-৬৯-১, কর্নওয়াল ৪২.২-৫-১১৪-২, মেয়ার্স ৭-২-১৬-০, ওয়ারিকান ৪৮-৮-১৩৩-৪, ব্রেথওয়েট ৪-০-১৩-০, বনার ৩-০-১৬-১।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস
ব্রেথওয়েট ব্যাটিং ৪৯ ৮১ ৭ ০
ক্যাম্পবেল এলবিডব্লিউ মুস্তাফিজ ৩ ১৫ ০ ০
মোজলি এলবিডব্লিউ মুস্তাফিজ ৩ ২৩ ০ ০
বনার ব্যাটিং ১৭ ৫৮ ২ ০
অতিরিক্ত (লেবা ১, নো ৩) ৪
মোট (২৯ ওভারে, ২ উইকেট) ৭৫
উইকেট পতন : ১-১১ (ক্যাম্পভেল), ২-২৪ (মোজলি)।
বোলিং :মুস্তাফিজ ৮-২-১৮-২, সাকিব ৬-১-১৬-০, মিরাজ ৭-২-২৪-০, তাইজুল ৫-২-৯-০, নাঈম ৩-০-৭-০।
