ঘুষ নেওয়ার দায়ে বরিশালে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকারের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:১৩

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বরিশাল সদর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার (কম্পোজিটর) আবু বকর সিদ্দিকীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাস সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বরিশাল বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. মহসিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিকী মাদারীপুর জেলার শিবচর সন্ন্যাসীর চরের মৃত আবদুল কাদের মাস্টারের ছেলে। আবু বকর সিদ্দিকী তার মূল কর্মস্থল ঢাকা তেজগাঁও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর থেকে প্রেষণে বরিশাল সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী হারুন আর রশিদ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়ার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মাসুদ আলম খান নগরীর রুপাতলী এলাকায় ৭.৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। প্রবাসীর ভাইয়ের নির্দেশে আবদুল মন্নান খান জমির নামপত্তন করতে বরিশাল সদর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে কাগজপত্র জমা দেন। সে বছরের ১০ ডিসেম্বর শুনানি হয়। পেশকার আবু বকর সিদ্দিকী শুনানির রায়ের কপি দিতে আবদুুল মন্নান খানের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আবদুুল মন্নান ১০ হাজার টাকায় রফা করেন। এই ঘুষ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আবদুল মান্নান ১৩ ডিসেম্বর বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক কর্মকর্তারা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে ফাঁদ পাতেন। সেই ফাঁদে দুদকের স্বাক্ষর করা ১০ হাজার টাকাসহ ধরা পড়েন আবু বকর সিদ্দিকী। ১৪ ডিসেম্বর আবু বকর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করেন উপ সহকারী পরিচালক আল আমিন। সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

গোপনে যন্ত্রপাতি বিক্রির খবরে টেক্সটাইল

মিলের গেটে তালা ঝুলিয়েছেন শ্রমিকরা

মালিকপক্ষ গোপনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে—এমন অভিযোগে বুধবার রাতে বরিশাল নগরীর রুপাতলীতে অবস্থিত সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রধান গেটের সামনে বিক্ষোভ করেছেন মিল শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, প্রায় ১০ মাস ধরে করোনার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল। বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও। এত দিনেও শ্রমিকদের কোনো খবরই নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বেতন-ভাতার দাবিতে এর আগে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছেন তারা। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বেতন-ভাতা না দিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ কারখানার যন্ত্রপাতি গোপনে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। বুধবার বিকালে মিলের হেড অফিসের কর্মকর্তারা কয়েকজন ক্রেতাকে নিয়ে কারখানায় আসেন। এরপর কারখানার নিজস্ব কাভার্ডভ্যানে নানান যন্ত্রপাতি লোড করান। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে গেট তালা বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে গাড়ি রেখেই সটকে পড়েন ক্রেতা ও মিল কর্তৃপক্ষ। সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জানান, তাদের বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মালামাল এখান থেকে নিতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে মালিক পক্ষের কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে বরিশাল বিভাগ

জুড়ে একযোগে মোবাইল কোর্ট

ও সচেতনতা কার্যক্রম

বরিশাল বিভাগ জুড়ে করোনা প্রতিরোধে প্রচারণা বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে একযোগে মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকারের নেতৃত্বে বিভাগের জেলা প্রশাসকগণ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় বিভাগের কর্মকর্তারা প্রচারণাপত্র, ‘নো-মাস্ক নো-সার্ভিস’ সম্বলিত ফেস্টুন বিলি করেন এবং দিনমজুরদের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। অভিযান পরিচালনাকালে মাস্ক না পরে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করায় মামলা দায়ের এবং অর্থদণ্ড করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্র জানায়, বিভাগে মোট ৪৯টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬১টি মামলা দায়ের এবং তিন লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রায় চার হাজার মাস্ক ও দুই হাজার বোতল স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।