বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের অনিয়ম দুর্নীতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার আদালতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হকের স্বীকারোক্তিকে ভিত্তি করে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে স্টাফ ‘ল’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। আর শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় তাকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের মাসোহারা দেওয়া হতো। এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তত্কালীন মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদেরও ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে দেওয়া হতো।
গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হককে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিলে তিন দিনের মাথায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দেন তিনি।
স্বীকারোত্তিমূলক জবানবন্দিতে রাশেদুল হক বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনিয়ম চাপা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে দিতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তত্কালীন মহাব্যবস্থাপক শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো ২ লাখ টাকা করে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অনিয়ম ম্যানেজ করতেন তত্কালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।
আদালতে রাশেদুল হক বলেছেন, প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্কালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর ভালো সম্পর্ক ছিল। পি কে হালদারের মাধ্যমেই সব অনিয়মকে ম্যানেজ করতেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ থেকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং পরিদর্শন করার জন্য বছরে দুইবার সহকারী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পদের দুই জন কর্মকর্তা আসতেন। যারা অনিয়মকে হাইড করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে তারা নিতেন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভালের জন্য গত ২০১৩ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পান শাহ আলম। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পেয়ে একই বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হন। এ সময়ে প্রায় ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়। এসব দুর্নীতিতে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেন রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের তত্কালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু বিষয়টা আদালত আমলে নিয়েছেন, আমাদের কাছে তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠালে আমরা অবশ্যই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করেন। তাদের মধ্যে কেউ যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সেসহ বাংলাদেশ ব্যাংকেরও মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে স্টাফ ‘ল’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
