শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ি এলাকার খলচান্দার কোচপাড়ায় বন্যহাতির তাণ্ডব শুরু হয়েছে। ফলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে। আতঙ্কিত গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। বৃহসপতিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় ১১১২ নম্বর সীমান্ত পিলারের ডালুকোনা-খলচান্দা থেকে ১১১৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের সমশ্চূড়া পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্যহাতির দলটি তাড়িয়ে দেয় গ্রামবাসী। তারা জানায় রাতের যে কোনো সময় বন্যহাতির দলটি লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালাতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী নির্মল কোচ (৪৫) ও দুঃসাশন কোচ (৩২) বলেন, বৃহস্পতিবার তারা বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকের ডালুকোনা পাহাড়ে গরু আনতে গেলে বন্যহাতির দলটিকে দেখতে পায়। এ সময় হাতি তাড়ানোর জন্য খলচান্দা কোচ পল্লিতে খবর পাঠায়। পরে গ্রামবাসী মিলে হাততালি, হইচই, চিত্কার ও হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে শব্দ করে সমশ্চূড়া পাহাড়ের দিকে হাতির দলটিকে তাড়িয়ে দেয়। এখন বন্যহাতির দলটি বসতবাড়ির অদূরে গলাচিপা নামক পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে অবস্থান করছে। হাতিগুলো যে কোনো সময় খলচান্দা গ্রামসহ আশপাশের বাড়িগুলোতে হানা দিতে পারে বলে গ্রামবাসী জানান। তারা আরো জানান, ২০০১ সালের দিকে এই পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি তাণ্ডব শুরু করে। প্রায় ২০ বছর অতিবাহিত হলেও হাতির তাণ্ডব ঠেকাতে সরকারিভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও মাঝেমধ্যে হাতি তাড়ানোর জন্য ডিজেল ও লাইট বিতরণ করা হয়েছে মাত্র। এগুলো পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, ঘরবাড়ি, রোপা আমনসহ ফসল বাঁচাতে বন্যহাতি আতঙ্কগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল ও ফগ লাইট বিতরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কারণ বন্যহাতি আলো ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তেমন ভয় পায় না। এ ব্যাপারে বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম বলেন, বন্যহাতির আক্রমণ থেকে জানমাল বাঁচাতে আমরা সচেতন আছি। এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে নিয়ে হাতির আক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যহাতির দলকে উত্ত্যক্ত না করার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
