করোনা ভাইরাস বছরাধিককাল বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে এখন কিছুটা রণে ভঙ্গ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে করোনার তাণ্ডব আগের মতো তীব্র আছে কি নেই তার থেকেও বড় কথা মানুষের মনে এখন আর আগের মতো ভয় নেই, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের। মানুষের আচরণ দেখে মনে হয়, তারা করোনার সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি করোনা যখন দুর্বার গতিতে নিত্য-নতুন এলাকা আক্রান্ত করে চলছিল, যখন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছিল আর লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিল, অর্থনীতিসহ সব সেক্টরই যখন পর্যুদস্ত, তখন বিশ্বনেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়ে তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। বিশ্বের তাবত চিকিত্সাবিজ্ঞানী রাত-দিন এক করে প্রতিষেধক আবিষ্কার করার প্রাণপণ লড়াই করে চলছিলেন; ঠিক সেই চরম প্রতিকূল মুহূর্তেও আশাবাদী মানুষেরা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন প্রতিষেধক আবিষ্কার হবে। তাঁরা জানতেন মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। আশাবাদী মানুষের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। টিকা আবিষ্কার হয়েছে। বেশ কয়েকটি টিকার সফল প্রয়োগ আমরা দেখলাম। আরো কয়েকটির আগমন আসন্ন। টিকা শুধু আবিষ্কারই হয়নি, এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার সফল প্রয়োগও শুরু হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সেই করোনা ভ্যাকসিন এখন বাংলাদেশে এবং গত ২৭ তারিখে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রদানের মধ্য দিয়ে টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ধীরে ধীরে টিকা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
কিন্তু কিছু মানুষ থাকে যারা কোনো কিছুর মধ্যেই ইতিবাচক কিছু দেখতে পায় না। এই তো কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে টিকা আসবে কি আসবে না, তা নিয়ে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। যখন টিকা সত্যি এলো তখন শুরু হলো সমালোচনার নতুন ঝড়। কেন প্রথমে ভিআইপিরা টিকা গ্রহণ না করে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে টিকার উদ্বোধন করা হলো, তাহলে কি টিকায় সমস্যা আছে? যা হয় হোক সাধারণ জনগণের ওপর দিয়ে হোক...ইত্যাদি নেতিবাচক সমালোচনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, যদি উলটোটি ঘটত, অর্থাত্ ভিআইপিরা টিকা আগে নিতেন, তাহলে এরাই উলটো সমালোচনা করত। টিকার মান নিয়েও এই সমালোচকদের কথার কমতি নেই। নানা রকম অবৈজ্ঞানিক কথা ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। টিকাগুলি চূড়ান্ত প্রয়োগের আগে পরীক্ষা পর্যায়ের সমস্ত ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করেছে। তারপরও তারা অবৈজ্ঞানিক কথা বলছে। যারা বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে না, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যে জ্ঞানপাপীরা জেনেশুনে অবৈজ্ঞানিক কথা বলছে, তারা মূলত তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই চরিতার্থ করতে চায়।
এক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান সচেতন মানুষদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য ইতিবাচক প্রচার চালাতে হবে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
খুলনা
