মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে বাড়ছে আটক

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩১

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভ বাড়ছে। এর সঙ্গে পুলিশ কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি দিতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া আসিয়ানের মিয়ানমার ইস্যুতে বিশেষ বৈঠক দাবি করেছে। মিয়ানমারের ৭০ এমপি সেনাশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও ডেইলি মেইলের

বিক্ষোভের সঙ্গে বাড়ছে আটক

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। মান্দালে শহরে গত তিন দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। সেখান থেকে ৩০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ডেউই শহরে তরুণ একদল কর্মী বিক্ষোভ করেন। ইয়াংগুনের ডাঙ্গুন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষকরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। শিক্ষকরা বলছেন, তারা সেনাশাসনকে স্বীকার করে না। এর আগে চিকিত্সকরাও সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। মিয়ানমারের ৭০ এমপি পার্লামেন্টে প্রতীকী অধিবেশন ডাকেন। তারা সেখানে সুচির মুক্তি দাবি করেন এবং সেনাশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেন। এরই মধ্যে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতাদের গ্রেফতার করছেন। শুক্রবার ভোরে উইন টাইনকে ইয়াঙ্গুনে তার মেয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে এনএলডির গণমাধ্যম কর্মকর্তা কি টোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে স্ট্রেইট টাইমস। বিবিসিকে টাইন রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সোমবারই সু চি ও তার দলের অন্য নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর তাদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

সেনাশাসকদের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে এবং সু চিসহ বন্দিদের মুক্তি দিতে আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন মিয়ানমারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়ে রেখেছে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে আটক নেত্রী অং সান সু চি ও অন্যদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদ এ আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মিয়ানমারের জরুরি অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানায়নি। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মত এক বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলো সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকা, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, আইনের শাসনকে পুরোপুরি শ্রদ্ধা করে চলতে বলা হয়েছে। তাছাড়া মিয়ানমারের জনগণের স্বার্থে তাদের ইচ্ছানুযায়ী আলোচনার টেবিলে বসা এবং সম্প্রীতির পথে হাঁটার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বিশেষ বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। শুক্রবার ঐ দুই দেশের নেতা এ আহ্বান জানান। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসিয়ানের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে মিয়ানমারের বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সফরে আছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান দেশটিতে (মিয়ানমার) গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পথে এক পা পিছিয়ে যাওয়া।