অনলাইন কেনাকাটায় বাড়ছে প্রতারণা!

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৫২

সময় ও স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে প্রযুক্তির উন্নতিসাধন। এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে জীবনধারা। একসময় ঘরে বসে পণ্য কেনাকাটার কথা ভাবাই যেত না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনলাইনে কেনাকাটা এখন এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, আমরা এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাজার বা মার্কেটে না গিয়ে ঘরে বসে যখন এক ক্লিকেই পছন্দসই পণ্য হাতে তখন মানুষ অধিক হারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়। 

বর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফরম রয়েছে ৯৫০ এবং সেখানে বর্তমানে দৈনিক ৪৫ হাজারের মতো পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের তথ্য মতে, বর্তমানে অনলাইন সেবা চালু রেখেছে সাড়ে ৭০০-র বেশি অনলাইন শপ। আর ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্য বিক্রি করছে আরো ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান। এদের অধিকাংশই যে বেকার কিংবা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো রকম খরচ ছাড়াই কিংবা স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনাবেচার পরিবেশই মূলত তাদের এ প্ল্যাটফরমে আগ্রহী করে তুলেছে। আর এ অনলাইন প্ল্যাটফরমকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নানা কর্মসংস্থান, বদলে যাচ্ছে বহু তরুণ উদ্যোক্তার ভাগ্য। কিন্তু প্রশ্ন নির্ভরযোগ্য সাইট নিয়ে!

একদিকে যেভাবে বাড়ছে অনলাইন শপিং, সাইটগুলোতে ঠিক তেমনিভাবেই বাড়ছে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা। ই-কমার্সের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বা চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসার নামে প্রতারণার জাল বুনেছে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী অসাধু চক্র।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্যাটাস দেন বগুড়ার ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ফেসবুকের ‘শপিং ক্রাউড’ নামে একটি পেইজে জামা বিক্রির প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রিম ৫০০ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে চারটি জামার অর্ডার করি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামা না পাওয়ায় যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখি মোবাইল নম্বর ব্লক এবং ফেসবুক থেকেও ব্লক করা হয়েছে। কমেন্টে আরেক ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান মাসুক বলেন, ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপন দেখে ই-কর্মাস সাইট থেকে শার্ট অর্ডার করেন তিনি। দুই দিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও বারবার যোগাযোগের পর ছয় দিনের মাথায় পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা গেল খুবই নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হয়েছে তাকে।

দেশে অনলাইন কেনাকাটা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ক্রমান্বয়ে বেড়ে চললেও অনেকের অভিজ্ঞতা ইউসুফ কিংবা মাসুকের মতো। অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে সাধারণ গ্রাহককে আকৃষ্ট করে একধরনের পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য কিংবা আসল পণ্যের মোড়কে নকল পণ্য সরবরাহ, কখনো বা পরিমাণে কম দেওয়া, আবার কখনো আগাম অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া—এসব তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের ই-কমার্সের ওপর। ফলস্বরূপ স্বস্তি ও আস্থার জায়গা হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে অনলাইন মার্কেটিং। অসাধু চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে ই-কমার্স খাত। ফলে আস্থা হারাচ্ছে বহু সত্ উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

হাজারও উদ্যোক্তার কর্মস্থল ও জনসাধারণের আস্থা ও স্বস্তির জায়গা অনলাইন মার্কেটিংয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ও নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষকে জনসচেতনতা ও ভোক্তা অধিকার আইনের প্রচারণা বাড়াতে এখনই মাঠে নামতে হবে, সাইবার জগতেও বাড়াতে হবে নজরদারি। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতে প্রণয়ন করতে হবে নতুন নীতিমালা ও আইন এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে এ জগতের নিরাপত্তা। সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটি দরকার তা হচ্ছে সচেতনতা। কোনো আকর্ষণীয় অফার বা বিজ্ঞাপন দেখে হুট করে পণ্য কিনতে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, ট্রেন্ড লাইসেন্স, মালিকের নাম-ঠিকানা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। কুরিয়ারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে রসিদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য গ্রহণ করতে হবে। ফেসবুক কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য পেইজ বা গ্রুপ থেকে কেনা এবং রিভিউ দেখে নিতে হবে ।

সর্বোপরি, কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ ও জনগণের সচেতনতাই অনলাইন মাকের্টিং তথা ই-কমার্সের প্রতি আস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়