সু চির মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪২

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির মুক্তির দাবিতে এবং সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অপরদিকে দেশটিতে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের পর এবার প্রায় পুরো ইন্টারনেট সংযোগই বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক শাসক। চলাচলে ও নিয়মিত জীবনযাত্রায় আরোপ করেছে কঠোর বিধিনিষেধ। খবর বিবিসির।

জানা গেছে, শনিবার ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক স্বৈরশাসকের পতন চাই, পতন চাই; গণতন্ত্রের জয় হোক, জয় হোক’ বলে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীদের একজোট হওয়া রুখতে ক্ষমতা দখলকারী জান্তাবাহিনী দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত সোমবার সামরিক অভ্যুত্থানের পর শনিবারই প্রথম মিয়ানমারের সড়কে এত বড় আকারে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত এনএলডি সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতার দখল নেয়। আটক করা হয় এনএলডি নেতা সু চিসহ দলের অধিকাংশ এমপিকে। প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টকেও আটক করে সেনাবাহিনী।

শনিবার বিক্ষোভকারীদের অনেকে লাল রঙের পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নেন। এনএলডির প্রতীক লাল রঙ। কেউ কেউ হাতে লাল রঙের পতাকা নিয়ে এসেছেন। মিছিলের সামনে ব্যানারে লেখা আছে, ‘সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে’। আকস্মিক এই বিক্ষোভে অনেকেই অবাক হয়েছে। কারণ মিয়ানমারের মতো দেশে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন বিক্ষোভ খানিকটা কল্পনারও অতীত।

এদিকে, ক্ষমতা দখলের পর সেনাবাহিনী দেশ জুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছে, তারা নতুন করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তবে কবে নাগাদ নির্বাচন হবে বা কবে নাগাদ তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে সে বিষয়ে কিছুই বলেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে এ অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে সু চিসহ সব বন্দিকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখনই ক্ষমতা না ছাড়লে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার বন্দি করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সু চিকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। তাকে কোথায় রাখা হয়েছে তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।  সু চি এবং প্রেসিডেন্ট মিন্টের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে মিয়ানমার পুলিশ।