কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্সের স্টুডেন্টদের বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের অধীনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে নার্সেস সংগঠনগুলো। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএনএসআর) উদ্যোগে এক বিক্ষোভে এ প্রতিবাদ জানায় তারা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমত আরা পারভিন বলেন, করোনা মহামারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত আছেন নার্সরা। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাশ করা পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্সের স্টুডেন্টদের বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল থেকে নার্সিং লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। একজন নার্স শিক্ষার্থী অবস্থায়ই বিভিন্ন মেডিক্যালে ডাক্তারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন। অথচ ঢাল-তলোয়ারহীন পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ছাড়াই একজন কারিগরি শিক্ষার্থী কীভাবে নার্সিং নিবন্ধন পাবে তা বোধগম্য নয়। তাদের অন্য জায়গায় চাকুরির ব্যবস্থা করেন। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আমরা অচিরেই আরো বড় আন্দোলন গড়ে তুলব।’
সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ ও বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নার্সিং শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি)।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৬-এর ২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানের নার্সিং কোর্স পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইনের ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী নার্সিং কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি নিজেকে নার্স পরিচয় দিতে পারবেন না এবং উক্ত বিধান লঙ্ঘনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি কামাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্স থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সের নিবন্ধন চাইছে, যা সম্পূর্ণ আইনের লঙ্ঘন।
