জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন!

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫২

রংপুরের তারাগঞ্জে বৃদ্ধ বাবা-মার শেষ সম্বল বাস্তুভিটাসহ দুই শতক জমি লিখে না দেওয়ায় তাদের ঘরে তিন দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন এবং বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে।

নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার কুটিপাড়া গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বৃদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুকুর আলী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধ আবু সাঈদের (৯৫) অনেক জমি ছিল। তার তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। বড় দুই ছেলে আমিনুর ও আখতারুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বৃদ্ধ বাবা-মাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে জোর করে সব জমি তাদের নামে লিখিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সব জমির বেশির ভাগই তারা বিক্রি করে দিয়েছে। এখন শেষ সম্বল দুই শতক জমি রয়েছে। সেখানে দুটো ঘরে বৃদ্ধ আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী জামিলা খাতুন ছোট ছেলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ছেলে আমিনুর ও আখতারুজ্জামান ঐ দুই শতক জমি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে তাদের হুমকি প্রদান এবং মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এক পর্যায়ে বৃদ্ধ বাবা আবু সাঈদ হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপরও দুই ছেলে আমিনুর ও আখতারুজ্জামান এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানরা জমির জন্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বৃদ্ধ বাবা-মা যাতে বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন সেজন্য বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়। এমনকি তাদের খাবার পানির উত্স টিউবওয়েলটিও ভেঙে ফেলে তারা। এলাকাবাসী ও বৃদ্ধের দুই মেয়ে খবর পেয়ে বাসায় এসে এই অবস্থা দেখে তারাগঞ্জ থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দুই জনকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মা জামিলা খাতুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, দুই ছেলে আমিনুর ও আখতারুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে তাদের হুমকি দিয়ে ও মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে সব জমি জোরপূর্বক নিজেদের নামে লিখিয়ে নেয়। এখন শেষ সম্বল মাত্র দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। তার প্রশ্ন—‘এ জমি লিখে দিলে অসুস্থ বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে আমি কোথায় যাব?’ বৃদ্ধ বাবা-মাকে রক্ষা, তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং সেই সঙ্গে নির্যাতনকারী দুই ভাইয়ের বিচারের দাবি জানিয়েছেন দুই মেয়ে জান্নাতী বেগম ও শামসুন্নাহার। তারাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুকুর আলী জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।