মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ব্যাংক কর্মচারীকে অপহরণ, পরে উদ্ধার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় এক ট্রাকচালককে হত্যার রেশ না কাটতেই এক দিন পর মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যাংক কর্মচারীকে অপহরণ করে সশস্ত্র অপহরণকারীরা। তাকে প্রাইভেট কারে তুলে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামলে মনোয়ারকে চোখ-মুখ বাঁধা ও গুরুতর আহত অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া-লালারপুল এলাকায় গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে ঢাকার কাওরান বাজার এলাকার জনতা ব্যাংকের কর্মচারী মনোয়ার হোসেন (৩০) শুক্রবার রাতে পাশের উজিরপুর ইউনিয়নের শুয়ারখিল গ্রাম থেকে রিকশাযোগে মহাসড়ক হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের ছুফুয়া-লালারপুল এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেট কারযোগে পেছন থেকে আসা সশস্ত্র অপহরণকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে রিকশার গতি রোধ করে চালককে মারধর করে এবং মনোয়ারকে টেনে-হিঁচড়ে প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। পরে তার হাত-পা ও চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে মনোয়ারের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ঐ মোবাইল ফোন দিয়ে তার ভাই নূর হোসেনকে ফোন করে বিকাশ নম্বর দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

মনোয়ারের বাবা রাজা মিয়া জানান, টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় অপহরণকারীরা মনোয়ারকে অমানবিকভাবে মারধর করে তার সাথে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে মহাসড়কে ফেলে যায়। গতকাল শনিবার বিকালে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামলে তা টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী সড়কের নন্দনপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে মনোয়ারকে ফেলে গেলে আমরা তাকে চোখ-মুখ বাধা ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে অপরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে রাত ১১টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মনিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আছমত আলীর ছেলে চক্রের সক্রিয় সদস্য মনির হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে মনোয়ার হোসেনের বাবা মামলা করেছেন।’

উল্লেখ্য, আগের দিন গত বৃহস্পতিবার ভোরে এ মহাসড়কের একই টোলপ্লাজা এলাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর থানার বেলপাড়া গ্রামের লাইজু মিয়ার ছেলে ট্রাকচালক আজিজুল ছিনতাইকারীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহাসড়কে অপরাধ দমনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে পুলিশ মহাসড়কে ডাকাতি-দস্যুতার ক্লু-লেস বেশ কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।’