এইচ.এম. ফেরদাউস হাসান, প্রভাষক
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ
মিরপুর, ঢাকা
একাত্তরের দিনগুলি
১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধাদের উত্সাহিত করতে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছিল। তারেক মাসুদ ‘মুক্তির গান’ প্রামাণ্যচিত্রে দেখিয়েছেন শিল্পীরা কীভাবে বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা দিয়েছেন। যুদ্ধ কেবল মুক্তিযোদ্ধারা করেননি। এ যুদ্ধে শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক, নাট্যকার, শব্দ সৈনিকের ভূমিকাও ছিল।
ঘ. উদ্দীপকের অনুভব ‘একাত্তরের দিনগুলি’ সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে কী? মূল্যায়ন করো।
(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের অনুভব ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনার সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে না। কেননা উদ্দীপকে শুধু শিল্পী—সাহিত্যিকদের অবদানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনায় এ দিকটি ছাড়াও পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসযজ্ঞ মানুষের দুর্বিসহ উদ্বাস্তু জীবন, লেখিকার মতো বাংলার স্বজনহারা মানুষের বেদনা, বিজয়ের উল্লাস প্রভৃতি ফুটে ওঠেছে। রচনায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানবাহিনী এ দেশজুড়ে এক বর্বরোচিত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। তারা গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এদেশের অসহায় মানুষকে নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আর এসব বেওয়ারিশ লাশের পঁচা দুর্গন্ধে বাংলার বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছিল। পাকিস্থানবাহিনীর এ হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের ভয়ে নিরূপায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে গন্তব্যহীন পথে পাড়ি জমিয়েছিল। এসব দিক ছাড়াও লেখিকা ছেলেকে হারিয়ে যে বেদনা পেয়েছিলেন তার মধ্য দিয়ে স্বজনহারা মানুষের বেদনাও ফুঠে ওঠেছে রচনায়। তাছাড়া পাকিস্থানবাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে শহর জুড়ে যে বিজয়োল্লাস চলছিল তাও রচনায় ফুটে ওঠেছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জোগাতে শিল্পী—সাহিত্যিকদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনায় এ দিকটি ক্ষুদ্র পরিসরে ফুটে ওঠলেও উদ্দীপকে তা মূল বিষয়বস্তু হিসেবে ফুটে ওঠেছে। উদ্দীপকে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনায় উপস্থাপিত উপযুক্ত বিষয়াবলির কোনোটির ইঙ্গিত পাওয়া যায় না।
আর এ দিকটি বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের অনুভব ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনার সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে না।
