লোডশেডিংমুক্ত সেচ ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১২

সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাপনা ও খরচ সাশ্রয় পারে কৃষকের আশানুরূপভাবে ফসলপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে। ধান চাষে পানি সাশ্রয়ি সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকের উত্পাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি ধানের ফলনের ক্ষতি এড়ানো যায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেবল আমন মৌসুমেই সম্পূরক সেচ প্রয়োগে দশ লাখ টন বাড়তি ধান উত্পাদন করা সম্ভব। এ দেশে মোট আবাদযোগ্য জমি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ২০৭ দশমিক ৪ হেক্টর। আর মোট সেচকৃত জমি ৭৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৭২ হেক্টর। এর মধ্যে আমন মৌসুমে ২০ লাখ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন পর্যায়ে সেচের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই কমবেশি সেচের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে বোরো মৌসুমে সেচের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এজন্য বোরোর আবাদ এলাকা আর না বাড়িয়ে আউশ এবং বৃষ্টিনির্ভর আমন ধানের আবাদ এলাকা বাড়ানোর জন্য সরকারি প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে বোরো চাষে সেচকাজে পানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যা মেটাতে ভূগর্ভস্থ পানি অধিক পরিমাণে তোলা  হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি কেজি ধান উত্পাদনে ১৫০০-২০০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যা সেচের মাধ্যমে পূরণ করা ব্যয়বহুল।  কিন্তু লোডশেডিংয়ের জন্য প্রয়োজনমতো সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছেই। কেননা এই মৌসুমে জমির পানির টান তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রয়োজনমতো পানি না পাওয়ায় চারাগাছ  নিস্তেজ ও মারা যাওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক। যদিও কৃষকদের কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১২টি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। বাংলাদেশে কর্মরত কিছু এনজিও-র নিজস্ব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে এবং সেগুলি তাদের কর্মীদের কৃষি, গ্রামীণ সমাজবিদ্যা, মত্স্যচাষ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।  এরূপ পদক্ষেপ সত্যি প্রশংসাযোগ্য। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও নতুন নতুন পদক্ষেপ দ্রুতই হাতে নেওয়া উচিত। তার মধ্যে অন্যতম হলো লোডশেডিংমুক্ত সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

শেখ সায়মন পারভেজ হিমেল

শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ,

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল