পশ্চিমের জেলাগুলোতে আলুর দরপতন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৩৮

উঠছে না উত্পাদন খরচ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে এবার আলুর চাষ বেড়েছে। ফলনও ভালো হচ্ছে। তবে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের উত্পাদন খরচ উঠছে না। গত বছর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক এবার আলু চাষে ঝুঁকেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে যশোর জেলায় ২ হাজার ৭০ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে, মাগুরায় ৫৭ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৫৪০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ৮৬১ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ১ হাজার ২৭৫ হেক্টরে আলু চাষ হয়েছে। এখন আলু উঠানোর মৌসুম চলছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের কৃষক মজনু ঢালী জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এতে তার ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কাঠাপ্রতি চার-পাঁচ মণ করে ফলন হচ্ছে। বিঘাপ্রতি ফলন হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ মণ। পাইকারি ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাত্ প্রতি কেজি ১০ টাকা। কিছুদিন আগেও তাদের এলাকায় অনেক কৃষক অপরিপক্ব আলু তুলে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। অর্থাত্ প্রতি কেজি সাড়ে ২২ থেকে ২৫ টাকা। তাদের ভালো লাভ হয়েছে। মহেশপুরের বাথানগাছি বেলেমাঠ গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, ১০ কাঠা জমিতে আলু চাষে তার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৫০ মণ আলু হয়েছে। মঙ্গলবার ১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ২২ হাজার টাকা পান। তার ৩ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। একই উপজেলার নওদাগাঁ গ্রামের কৃষক ওহেদুল ইসলাম বলেন, গত বছর চড়া দাম দেখে সাত বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বীজ কিনেছেন। কিন্তু নতুন আলু ওঠার পর দাম কমে যাওয়ায় তিনি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের কৃষক ইজাজুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার যশোরের বারিনগর হাটে পাইকারি প্রতি কেজি আলু ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় পাইকারি প্রতি কেজি আলু ৯-১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পশ্চিমাঞ্চলে এখনো আলু পুরোপুরি ওঠা শুরু হয়নি। তবে আলুর দরপতনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি কৃষকদের আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।