বিশেষজ্ঞদের চোখে
হারের কারণ
স্পোর্টস রিপোর্টার
চট্টগ্রাম টেস্টের চার দিনই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। চালকের আসনে ছিল মুমিনুল হকের দল। গতকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে তিন সেশনে দাপট দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিনারদের ম্লান করে দিয়ে অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েছেন কাইল মেয়ার্স। বিশেষজ্ঞদের চোখে গতকাল বাংলাদেশের ৩ উইকেটে হারের পেছনে বড় কারণ মেয়ার্স-বনারের জুটি, মেয়ার্সের ঐতিহাসিক অপরাজিত ২১০ রানের ইনিংস। সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিনারদের অকার্যকর বোলিং।
টাইগারদের এমন হারে হতাশ ক্রিকেটপ্রেমীরাও। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট অবশ্য মুমিনুলদের হারকে নেতিবাচকভাবে দেখতে চান না। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত হবে না আমার মনে হয়। ওদের কাইল মেয়ার্স অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। বনারকে নিয়ে ২১৬ রানের জুটি গড়েছে। এখানেই ম্যাচ চলে গেছে।’
সবাইকে চমকে দিয়ে সাগরিকার উইকেটও স্পিনারদের সাহায্য করেনি। এ প্রসঙ্গে পাইলট বলেছেন, ‘এটা সবার চোখে পড়েছে। আসলে শীতকালে কিন্তু উইকেট এত ভাঙে না। এপ্রিলের রোদ হলে উইকেট আরো ভাঙত। বাংলাদেশ দলও ভেবেছিল পঞ্চম দিনে উইকেট ভাঙবে, সেটা হয়নি।’
বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কোচ সরোয়ার ইমরান মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দলের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যানদের রান কম হয়েছে। সঙ্গে স্পিনারদের বোলিংয়ে সুস্পষ্ট গলদ পেয়েছেন তিনি। এমন উইকেটে ফ্লাইট দিয়ে বোলিং করা দরকার ছিল, যা মিরাজ ছাড়া কেউ করতে পারেননি।
অভিজ্ঞ এ কোচ গতকাল হারের কারণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘প্রথমত আমি বলব, প্রথম ইনিংসে আমাদের ৫৫০-৬০০ রান করা উচিত ছিল। শুধু মিরাজ সেঞ্চুরি করেছে। ওপরে সাত ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলেনি। এমন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে এ উইকেটে বড় রান হওয়া উচিত ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল-লিটন রান করেছে।’
তারপরও ৩৯৫ রানের টার্গেট যথেষ্ট ছিল মনে করেন সরোয়ার ইমরান। গতকাল তিনি বলেন, ‘টার্গেট খারাপ ছিল না; কিন্তু আমাদের স্পিনাররা ভালো বোলিং করেনি। এ উইকেটে ফ্লাইট দিয়ে ওপরে বোলিং করা দরকার ছিল। তাতে স্লিপে ক্যাচ যেত। মিরাজ ছাড়াই কেউ ফ্লাইট দিয়ে বোলিং করেনি। তাইজুল-নাঈম জোরে জোরে শর্ট বল করেছে। মেয়ার্সকে রান করার সুযোগ দিয়েছি আমরা। উইকেটও ভাঙেনি। তাই এ বোলিং কার্যকর হয়নি।’
