ভারতে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নন্দাদেবী শিখরের কাছে হিমবাহ ধসে ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এতে ১০০ থেকে ১৫০ জন নিহত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। খবর বিবিসি ও দ্য হিন্দুর
উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্যসচিব ওম প্রকাশ বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, হিমবাহ ধসের পর যে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা হয়েছে তাতে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন মারা যেতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাডে আরো বেশ কয়েক শ মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। বহু লোকের খোঁজ মিলছে না। এই বিপর্যয় আঘাত হানে গতকাল রবিবার সকালে। হিমালয়ের নন্দাদেবী শৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহ বিস্ফোরিত হওয়ায় তীব্র জলরাশি অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গা নদীতে আকস্মিক বন্যা ডেকে আনে। ঐ নদী দুটোতে জলস্তর হঠাত্ করেই বেড়ে যায় বেশ কয়েক মিটার। ভাটিতে যে ঋষিগঙ্গা বিদ্যুেকন্দ্র রয়েছে, বন্যার প্রথম আঘাতটা সেখানেই আছড়ে পড়ে।
উত্তরাখণ্ডের স্টেট ডিজ্যাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী) ডিআইজি ঋধিম আগরওয়ালকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ঐ বিদ্যুেকন্দ্রের ১৫০-এর বেশি কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আগরওয়াল পিটিআইকে জানান, ঐ বিদ্যুেকন্দ্রের কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছেন, প্রোজেক্ট সাইটে কর্মরত ১৫০-এর মতো কর্মীর সঙ্গে তারা যোগাযোগই করতে পারছেন না। চামোলি জেলার ঐ অঞ্চলে অনেকগুলো রেলপথ ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেরও কাজ চলছে। সেখানে যে সব শ্রমিক ও কর্মচারীরা রয়েছেন, তাদের সুরক্ষা নিয়েও প্রবল উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের ২০০ কর্মী ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) পাঁচটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে, যার চারটি গেছে দিল্লি থেকে, আর একটি দেরাদুন থেকে। ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ নামে ভারতের যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী চীন-লাগোয়া ঐ অঞ্চলটিতে প্রহরার কাজে মোতায়েন, তাদেরও দুটো দল বন্যাবিপর্যস্ত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় গতকাল আসামে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকেই তিনি টুইট করে জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির দিকে আমি প্রতিনিয়ত নজর রাখছি। এই বিপদে সারা ভারত উত্তরাখণ্ডের পাশে আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
