মাদারীপুরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ‘পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়ার’ ১৪ ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরেছেন কালকিনি পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। গতকাল রবিবার ভোর ৪টার দিকে তিনি কালকিনির নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মেয়র প্রার্থীর স্বজন ও সমর্থকরা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। এ সময় তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনে একটি কল দেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তাত্ক্ষণিকভাবে সেখানে কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন গাড়ি নিয়ে হাজির হন। পরে সেখান থেকে সবুজকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মেয়রকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে কালকিনি থানা ঘেরাও করেন সবুজের সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কালকিনি-ভুরঘাটা ও কালকিনি-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হলে আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক। এ সময়ে ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
সবুজের স্ত্রী জাহান বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে সবুজ যদি নির্বাচনের কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করে তাহলে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ কেন তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাবে? তার ওপরে কেন এই হয়রানি। সবুজ শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ জানান, পুলিশের গাড়িতে করে তাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ওবায়দুল কাদের তাকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দল যাকে প্রার্থী নির্বাচন করেছে তার পক্ষে কাজ করার জন্য বলেন। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। সবুজ বলেন, তিনি ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। কালকিনির জনগণ তাকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জনগণের সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানাবেন। পরে এক আত্মীয়ের গাড়িতে করে তিনি কালকিনিতে নিজ বাড়িতে ফেরেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে পুলিশের তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
