পালটাপালটি বহিষ্কার ও নেতৃত্বের প্রশ্নে প্রায় দেড় বছর ধরে চলতে থাকা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে শেষ পর্যন্ত গণফোরাম ছেড়ে দিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদের পাশাপাশি দলীয় সদস্য পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া।
গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমার পদত্যাগপত্র দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি। আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি ড. কামাল হোসেন ও গণফোরামের নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। গত ১৮ মাস ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। তিনি আরো বলেন, আমি দেশের মানুষ ও গণমাধ্যম যারা আমাকে বিগত মাসগুলোতে সাহস যুগিয়েছেন ও সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আশা করি আগামী দিনগুলোতে আমরা দেশে মুক্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যাব।
প্রসঙ্গত, রেজা কিবরিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন। হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনও করেন। ২০১৯ সালে গণফোরামের কাউন্সিলের পর ড. কামাল হোসেন দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেজা কিবরিয়ার নাম ঘোষণা করেন। কার্যত এরপর থেকেই গণফোরামে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু এবং সাবেক দুই নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ দলের কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে রেজা কিবরিয়ার মতপার্থক্য শুরু হয়। যা গড়ায় প্রকাশ্য কোন্দলে। যার জেরে এক পর্যায়ে দল দুই ভাগ হয়ে পড়ে। দলে জোড়া লাগাতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেন কামাল হোসেন, কলহ থামাতে তিনি দলে পালটাপালটি সব বহিষ্কারকে ‘অকার্যকর’ বলে ঘোষণা দেন।
