বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে খোলা তেল বিক্রি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:১০

নৌকায় সারি সারি ড্রামে ভর্তি তেল। নৌকার মাঝিরা সে তেল নিয়ে ছুটছেন লঞ্চের দিকে। যা ব্যবহার হবে লঞ্চের জ্বালানি হিসেবে। ব্যস্ত সময় পার করছেন, পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠা তেলের দোকানিরাও। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে তেলঘাট এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই খোলা পরিবেশে ড্রামে করে এসব তেল বিক্রি করে আসছে এখানকার প্রায় ৫০ দোকানি। তাদের নিজেদের দোকানের সামনে ড্রামে করে তেল রাখা ছাড়াও বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখল করেও রাখা হয়েছে ড্রাম।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকান মালিকরা প্রতিদিন ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ড্রামে করে নিজস্ব নৌকায় সদরঘাট টার্মিনাল, শ্যামবাজার, বাদামতলী এলাকায় লঞ্চে বিক্রি করে। স্থানীয়রা ও লঞ্চের কর্মকর্তারা জানান, খোলা তেল নিয়ে এসে নৌকা থেকে লঞ্চে উঠানোর সময় তেল নদীতে পড়ে নদীর পানি দূষিত হয়। এছাড়া খোলা অবস্থার কারণে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

এম ভি পারাবাত লঞ্চের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাস্টার বলেন, তেলঘাটে তেলে ভেজাল মেশানোর কারণে লঞ্চের ইঞ্জিনের পিস্টনেও ক্ষতি হয়। লঞ্চে উঠানোর সময় তেল নদীতে পড়ে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহেদা বেগম জানান, কেরানীগঞ্জে খোলা জায়গায় ও খোলা পরিবেশে তেল বিক্রি করায় পরিবেশ ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। এসব দোকানের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই। সরকারি আদেশ অমান্য করে তারা খোলা তেল বিক্রি করে আসছে। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে তেলঘাটে এলাকার তেল ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক বার আলোচনা করেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। এজন্য পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানাও করেছে। তেলঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ডিএম সারোয়ার বলেন, তেলঘাটের তেল ব্যবসায়ীদের কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। বুড়িগঙ্গা নদীরও পানি দূষণ হয় না। তারা ১৯৮২ সাল থেকে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ তেলঘাট এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যবসায়ী তেল ব্যবসা করে আসছে।

তেলঘাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মনির লাইসেন্সের বিষয়ে বলেন, আসলে অনেকের লাইসেন্স আছে, আবার অনেকের নেই। সঠিক এ বিষয়ে বলতে পারব না।

খোলা জায়গায় তেল বিক্রির বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কোনোভাবেই খোলা জায়গায় লাইসেন্স ছাড়া এসব জ্বালানি বিক্রি করার অনুমোদন নেই। বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদন ছাড়াই এসব বিক্রি হয়। আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেই।