নতুন রূপে আলী আমজাদের ঘড়ি

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:৩২

নগরীর মানুষের চোখে-মুখে অপেক্ষা। রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় সবাই। সাধারণ জনতার চোখ আলী আমজাদের ঘড়ির দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হলো প্রতীক্ষার প্রহর। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা। সঙ্গে সঙ্গেই আলোকিত হয়ে উঠলো চারদিক। একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকা আতশবাজির বিভিন্ন রঙের আলোর ঝলকানিতে মুখরিত চারপাশ। ঝলমল করে উঠল সুরমা নদীর এপাড়-ওপাড়।

বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে থাকা জনতা এমন দৃশ্য এর আগে দেখেনি কখনো। অনেকেই আবার পরিচিত এমন দৃশ্যের সঙ্গে। এমন দৃশ্য হয়তো এতদিন কেবল লন্ডনের বিখ্যাত বিগ বেনকে ঘিরেই দেখেছে তারা। এবার সিলেটবাসীর গর্ব ও  ঐতিহ্যের প্রতীক আমজাদ আলীর ঘড়িকে ঘিরেই এই দৃশ্য বাস্তব করে তুলতে চায় মারমেইড ইকো টুরিজম লিমিটেড। পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের জন্য বিশ্ব দরবারে সুপরিচিত এই প্রতিষ্ঠান আবারো পুরনো জৌলুস ফিরিয়ে দিতে চায় আলী আমজদের ঘড়িকে।

আলী অমজাদের ঘড়িকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রস্তাব এরই মধ্যে সিলেটের মেয়র বরাবর জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি বছর মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা ছাড়াও এর নিয়মিত পরিচর্যা, গোটা চত্বরের সৌন্দর্য বর্ধন, ল্যান্ডস্কেপিং, পর্যটকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা আছে এতে।

মারমেইড ইকো টুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ জানান, ‌দেশব্যাপী বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি আমরা। কমপক্ষে ৫ বছরের জন্য পরিকল্পনা হাতে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। আলী আমজাদের ঘড়ি আমাদের দেশের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটিকে আমরা দেশে তো বটেই এমনকি বাইরের বিশ্বের কাছেও একটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

নগরের কিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পাড় আর সারদা হলের মাঝখানে শহরের ‘জিরো’ পয়েন্ট। তার ঠিক ১০০ মিটারের মধ্যেই আলী আমজাদের ঘড়ির অবস্থান। কিনব্রিজ পার হয়ে শহরের উত্তর অংশের ঠিক প্রবেশমুখে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা এ ঘড়ি স্থাপিত হয় ১৮৭৪ সালে। ওই বছর তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক সিলেট সফরে এসেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান ঘড়িটি নির্মাণ করেন। নামকরণ করেন নিজের ছেলে আলী আমজাদ খানের নামে। ভারতের দিল্লির চাঁদনী চক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নবাব ঘড়িটি স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।

ঘড়িটির দেখভাল করার দায়িত্বে আছে সিলেট সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা গেছে, আলী আমজাদের ঘড়ির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি। নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ১৩ ফুট, ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা ৭ ফুট, ঘড়ির ওপরের অংশের উচ্চতা ৬ ফুট। মোট উচ্চতা ২৬ ফুট। ঘড়িটির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। তখনকার সময়ে এখানকার মানুষ সাধারণ সূর্যের আলো দেখেই সময় আন্দাজ করে নিতেন। ঘড়িটি চালু হওয়ার পর সময় জানার জন্য এটিই হয়ে ওঠে অনেকের অবলম্বন।

লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এই ঘড়ি। এই নান্দনিক স্থাপনা যে কাউকে মুগ্ধ করে। এ ঘড়ি সিলেটের প্রতীক হিসেবে এখন দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘড়িটি বিধ্বস্ত করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পরে কিছুসংখ্যক প্রবাসী, আরও পরে তৎকালীন সিলেট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এটি সচল করতে উদ্যোগী হয়। বার কয়েক সংস্কার করা হলেও নানা সময়ে ঘড়িটি অচল হয়ে পড়ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন ঘড়িটি পুনরায় সচল করে। 

লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এই ঘড়ি। এই নান্দনিক স্থাপনা যে কাউকে মুগ্ধ করে। এ ঘড়ি সিলেটের প্রতীক হিসেবে এখন দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘড়িটি বিধ্বস্ত করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পরে কিছুসংখ্যক প্রবাসী, আরও পরে তৎকালীন সিলেট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এটি সচল করতে উদ্যোগী হয়। বার কয়েক সংস্কার করা হলেও নানা সময়ে ঘড়িটি অচল হয়ে পড়ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন ঘড়িটি পুনরায় সচল করে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি