চলতি বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ‘হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে অনেক স্থানে পানি রয়েছে। যে কারণে বাঁধের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
এদিকে, প্রতি বছর বোরো ফসল ঘরে তুলতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড- পাউবো। চলতি মৌসুমেও পাউবো সিলেট বিভাগের ২ লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর এলাকাকে বন্যা মুক্ত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য ১৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়েছে। এতে ৬৬৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ হবে।
এ পর্যন্ত ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে ইত্তেফাককে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করতে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও পিআইসিদের তাগাদাও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতি বছরই মাটি দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ (ডুবন্ত বাঁধ) নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষা শেষে বিভিন্ন স্থানে বাঁধের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে সরকারি টাকার অপচয় হয়। নদী, খাল নাব্যতা হারায়। এ জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে পাউবো কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জের শনির হাওরের লালুর গোয়ালা ও সাহেব নগর স্থানের ডুবন্ত বাঁধের ২ কিলোমিটার ‘পাইলট জিওসেল’ প্রটেকশন নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি কোরিয়ান প্রযুক্তি। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ২১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অর্থের অপচয় রোধ হবে। এলাকার ৮৪১ হেক্টর জমির ফসল নির্বিঘ্ন হবে। তিনি বলেন, এটি অনুমোদন হলে আগামীতে বাকি কাজও অনুরূপ হবে।
সিলেটের অন্যতম ফসল বোরো। কিন্তু ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের ফসল ভেসে যায়। বিপর্যয় ঠেকাতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। সেই পরিস্থিতির কথা মনে পড়লে কৃষকরা আজও আঁতকে ওঠেন। পৌষ-মাঘে বোরো চাষ হয়। আর বৈশাখে কাটা হয় ফসল। কৃষি বিভাগ জানায়, কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে সিলেটের চার জেলায় ১৮ লাখ টন চাল গোলায় উঠে।
কাজে ধীর গতি
সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বোরো উত্পন্ন হয় সুনামগঞ্জ জেলায়। এবার এ জেলায় ৬১২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এতে ছোট-বড় ১৫৪ হাওরের বোরো ফসল রক্ষার কথা। কিন্তু কাজে ধীর গতির অভিযোগ এনেছেন, ‘হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় পিআইসি গঠনেও অনিয়ম হয়েছে। অনেক স্থানে কাজের গতি নেই। তবে পাউবো সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে। এজন্য ৭৮০টি পিআইসি গঠন করা হয়। জেলায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ১২৬ কোটি টাকার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এবার ৬১২ কিলোমিটার বাঁধ ও ১৩৫টি প্রধান ক্লোজার নির্মাণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি তদারকির জন্য উপজেলা কমিটি, জেলা কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। কিন্তু পিআইসি গঠনে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কমিশন আদায়, নানান অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঐ নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন ও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে হবে।
