কুমিল্লায় সেনাসদস্য হত্যা মামলায় চার আসামির ফাঁসি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৬

নাঙ্গলকোটে সেনাসদস্য আবদুর রহমান হত্যা মামলায় চার জনকে ফাঁসি ও এক জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক রোজিনা খান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার চম্পকনগর বাদারিয়া কলোনির মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম, একই থানার উথারিয়া গ্রামের রেজু মিয়ার ছেলে উজ্জল মিয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার ছেলে জনি ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার মশাখালী গ্রামের আকাশী দাসের ছেলে প্রদীপ দাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব গ্রামের মৃত লাহু মিয়ার ছেলে আলী আক্কাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামের হাফেজ মাওলানা মফিজুল ইসলামের ছেলে আবদুর রহমান বগুড়া সেনানিবাসে সৈনিক পদে কর্মরত ছিল। ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর রাতে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে গোত্রশাল দীঘির পশ্চিম পাশে তার লাশ ফেলে যায়। খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন রাতে নিহত আবদুর রহমানের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আতাউর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল আদালতের বিচারক অভিযুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকে ফাঁসি এবং অন্য আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শেখ মাসুদ ইকবাল মজুমদার এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাঈমা সুলতানা মুন্নী।