ফেনীতে অটোচালককে হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসির রায়

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৮

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মুলকত আহম্মদ কালা মিয়া হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মুলকত আহম্মদ কালা মিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হুমায়ুন হাছান রাকীব, আবদুর রহমান মানিক ও আবু তৈয়ব বাবলু। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুমন চন্দ্র রায়। তাকেও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি  একই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরশুরাম উপজেলা থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে ফুলগাজীর মুন্সিরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন মুলকত আহাম্মদ কালা মিয়া। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে জগতপুর রোডের টুক্কু মিয়ার পুলের পশ্চিম পাশে পানি থেকে মুলকতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই ফখরুল আহাম্মদ মজুমদার বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ওসি সৈয়দুল মোস্তফা ২০১১ সালের ২৮ মে আদালতে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৫ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাইফ উদ্দিন মজুমদার শাহিন বলেন, মামলার রায়ে যাদের খালাস দিয়েছেন তারা সুবিচার পেয়েছেন। এই মামলায় কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। শুধুমাত্র ১৬৪ ধারায় উপর ভিত্তি করে সাজা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এটা প্রমাণ করতে পেরেছি কিনা এটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলি এডভোকেট হাফেজ আহম্মদ বলেন, রাষ্ট্র সাক্ষ্য প্রমাণে এ রায় প্রদান করা হয়েছে। এ মামলার রায়ে আমি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

ইত্তেফাক/এমআর