রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতনদের বাদ দিয়ে অধস্তনদের আসামি করায় দুদকের খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুল হাসানকে তলব করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের চীফ এক্সিকিউটিভ, চীফ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ও সেক্রেটারিকে তলব করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এই মামলায় দুই আসামির জামিন শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের আওতাধীন ২২টি খেয়াঘাটের রাজস্ব আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এই মামলার জামিন শুনানিতে ঊর্ধ্বতনদের বাদ দিয়। অধস্তনদের আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
ঘোলা-হিজলা-কল্যাণপুর খেয়াঘাট ও হাজরাখালি-বিছট খেয়াঘাটের শ্রেণি পরিবর্তন করার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবর রহমান নোটিশ করলে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি আবু হেনা শাকিল হাইকোর্টে ২৫/২০১২ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। ২০১৩-১৪ সালে ঘোলা-হিজলা-কল্যাণপুর খেয়াঘাট ইজারাদার আবু হেনা শাকিল ইজারার চার লাখ ২০ হাজার ৪৮০ টাকা পরিশোধ না করায় ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শেখ মনিরুজ্জামান আশাশুনি উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে চিঠি দিয়ে আবু হেনা শাকিল যাতে ইজারার টাকা পরিশোধ না করে ওই বছরের ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচন না করতে পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলেন। যদিও তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন অফিসার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ইজারার টাকা পরিশোধ না করেও শ্রীউলা ইউনিয়নে নির্বাচন করেন প্রভাবশালী নেতা আবু হেনা শাকিল।
সাতক্ষীরার ২১টি খেয়াঘাটে ইজারার টাকা আত্মসাতসহ জেলা পরিষদের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ১৩ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. সত্যরঞ্জন মণ্ডল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। ওই বছরের জেলা পরিষদে এ নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (যুগ্ম সচিব) হোসেন আলী খন্দকার। সেখানে সাক্ষ্য দেন অ্যাড. সত্যরঞ্জন মণ্ডল ও মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ। পরে ওই কর্মকর্তা তদন্তের দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে তিনিও অপরাগতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন।
এরপর শুধুমাত্র খেয়াঘাটের ইজারার টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করে অ্যাড. সত্যরঞ্জন মণ্ডল ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে ১২২৬২/১৮ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক মাসের মধ্যে সত্যরঞ্জন মণ্ডলের আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য ৮নং বিবাদী দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
