হয় আমাকে আমার বসতবাড়ীতে ফিরে যেতে দিতে হবে, নতুবা আমাকে আত্মহত্যার অনুমতি দিতে হবে। এমন আবেদনপত্র নিয়ে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ৮০ বছরের মুসা করিম ও তার নাতী।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিষের বোতল হাতে করে উপস্থিত হয়ে মুসা করিম জানান, নিজের বসতভিটা নাতির নামে লিখে দেয়ার কারণে পুত্রবধূর কাছে থেকে বিতাড়িত হয়েছি। তাই আত্মহত্যার জন্য অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।
আবেদনপত্রে মুসা করিম আরও বলেন, 'দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ আমি আমার বসতবাড়ীতে বসবাস করে আসছি। আমার স্ত্রী সহ সন্তানাদি ও নাতি নাতনী আছে। সবার জন্য আমার জমির অংশ মোতাবেক ভাগ করে দিয়েছি। অবশিষ্ট যে বাড়ির জায়গাটি রয়েছে সেটি আমার নাতী আকাশের নামে লিখে দিয়েছি। বিষয়টি জানতে পেরে আমার বড় ছেলে লালচাঁদ ও তার স্ত্রী আসমা খাতুন আমাকে ও আমার নাতী আকাশকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু কেউ আমাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা কেউ করে দিতে পারেনি। যে কারণে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।'
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, 'আমরা কোমরপুর গ্রামে মুসা করিমের বাড়িতে যায় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি জানায়। দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ কোনো প্রতিকার না পেয়ে আজকে মুসা করিম ও তার নাতীকে নিয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে আত্মহত্যার জন্য অনুমতি চেয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।'
বিষপান আবেদন বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মুনসুর আলম খান 'বৃদ্ধের হাত থেকে বিষের বোতল নিয়ে নেন এবং তাকে আশ্বস্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।'
বৃদ্ধ মুসা করিম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মৃত ফজের হালসানার ছেলে।
ইত্তেফাক/এনএ
