পাখি ও পরিবেশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৬

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পশুপাখির অবদান অনেক বেশি। আগে পাখির কিচিরমিচির শব্দে গ্রামের পরিবেশ সব সময় মুখর থাকত। বসত-বাড়ির আঙিয়ায়, নারিকেলগাছ-তালগাছে ঝুলে থাকত বাবুই পাখির বাসা। ঘরের চালে, কোটরে বাসা বানিয়ে থাকত চড়ুইপাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে ভোর হতো প্রতিদিন। এসব পাখি এখন কদাচিত্ দেখা যায়। এইসব পাখির সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। পাখির প্রধান খাবার পোকামাকড়। পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। এতে ফসলের ক্ষতি কম হয়। বর্তমানে পাখিরা সংখ্যায় অনেক কম, অন্যদিকে ফসলের ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা অনেক বেশি। যার কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে। এই কীটনাশক যেমন বায়ু দূষণ করছে, তেমনি বিষাক্ত করে তুলছে খাবারকেও। বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরে নানা রোগবালাই সৃষ্টি হচ্ছে।

গত মৌসুমে ধানখেতকে ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে রক্ষার জন্য বেশ কয়েকবার বিষাক্ত কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। তারপরও পোকার আক্রমণ থামছেই না। দিন যত যাচ্ছে পোকার আক্রমণ তত বাড়ছে, আর সেইসঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে কীটনাশক ছিটানো। এতে পরিবেশ হয়ে উঠছে বিষাক্ত। বিপুল সংখ্যায় পাখি থাকলে তারা তাদের নিজেদের খাবারের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলত। বাংলাদেশে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই পাখি সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে, বাড়াতে হবে পাখির আবাসস্থল।

মো. সোহেল রানা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ