রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
উখিয়ায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি থামছে না। উপজেলার হিজলিয়া খালের বিভিন্ন অংশ থেকে পাড়ের মাটি কাটা ও বালু তোলার ফলে শতাধিক বসতি হুমকিতে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আতঙ্কে আছে সেসব পরিবার।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন রাজাপালংয়ে রেজুখালের হিজলিয়া অংশে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আসছে বর্ষা মৌসুমে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিজলিয়া খাল পাড়ে বসবাসকারী পরিবার ছিদ্দিক আহমদ, ছৈয়দ হোছন, মোহাম্মদ ইসলামসহ শতাধিক লোকজন জানায়, হিজলিয়া খাল থেকে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধে গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত তহশিলদার গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেন। তহশিলদার আবুল হোছাইন জানান, ঘটনাস্থল হিজলিয়া খালের ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন না করার জন্য ইজারাদারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। খালের ভাঙনে বিধ্বস্ত জনপদ হিজলিয়া খালের প্রবেশ মুখের অংশটি কেন ইজারা দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিমুল এহসান খান বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত রেখেছি। হিজলিয়া খালের ভাঙনকবলিত স্থান থেকে কে বা কারা বালু উত্তোলন করছে তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে হিজলিয়া খালের ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলে তাদের অর্থায়নে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, উক্ত এলাকায় স্থায়ীভাবে সংস্কার পূর্বক খালের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খাল থেকে বালু উত্তোলন খুবই নেক্কারজনক। এ ব্যাপারে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
